খুনের অভিযোগের কেন্দ্রে রাজগঞ্জের বিডিও! স্বর্ণ ব্যবসায়ী নিখোঁজ কাণ্ডে নাম জড়াল প্রশান্ত বর্মনের, প্রকাশ্যে WBCS নিয়োগের বিতর্কও

পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দা স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে অপহরণ করে খুনের অভিযোগের তদন্তে এবার নাম জড়াল রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মনের। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, বিডিও-র বাড়ি থেকে চুরি যাওয়া সোনা ওই ব্যবসায়ী তাঁর দত্তাবাদের দোকানে বিক্রি করেছিলেন। সেই সোনা উদ্ধার করতেই বিডিও ওই ব্যবসায়ীর খোঁজ শুরু করেন বলে অভিযোগ।

এই ঘটনার আবহে, বিডিও প্রশান্ত বর্মনের ডব্লিউবিসিএস (WBCS) নিয়োগে বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে।

বিডিও-র নিয়োগ বিতর্ক:

প্রথম তালিকা থেকে বাদ: ২০১৭ সালে যখন WBCS (এক্সিকিউটিভ)-এর সফল প্রার্থীদের প্রথম তালিকা প্রকাশিত হয়, তখন বিডিও প্রশান্ত বর্মনের রোল নম্বর (১৭০০৩৫৩) সেই তালিকায় ছিল না।

সংশোধিত তালিকায় অন্তর্ভুক্তি: পরে ২০১৭ সালের ২১ এপ্রিল পাবলিক সার্ভিস কমিশন (PSC) একটি সংশোধিত তালিকা প্রকাশ করে, যেখানে প্রশান্ত বর্মনের রোল নম্বর যুক্ত হয়। তথ্যের অধিকার আইনের মাধ্যমে এই তথ্য সামনে আসে।

কারচুপির অভিযোগ ও মামলা: আইনজীবী শামিম আহমেদের দাবি, প্রশান্ত বর্মন প্রিলিমিনারিতে পাস করেননি। তিনি বলেন, “আমরা আদালতের কাছে খাতা তুলে দিয়ে দেখিয়েছি কীভাবে খাতায় কারচুপি হয়েছে। আমরা তাঁর চাকরি খারিজের এবং এই বেআইনি নিয়োগের সঙ্গে যুক্ত পিএসসি-র আধিকারিকদেরও শাস্তির দাবি করেছি।”

বিডিও-র পাল্টা দাবি: তবে বিডিও প্রশান্ত বর্মন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা নিয়োগ অনিয়মের অভিযোগকে সম্পূর্ণভাবে ষড়যন্ত্র বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আগেও বলেছি আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। যে সমাজ থেকে উঠে এসেছি, তাদের ইতিহাসে প্রথম রাজবংশী প্রার্থী হিসেবে আমি ডব্লিউবিসিএস পরীক্ষায় প্রথম হয়েছিলাম। সেদিন থেকে আমার পিছনে লাগা হচ্ছে। আমার মৃত্যু হলেও হয়তো সেটা বিতর্কের কারণ হবে।”