খালি হতে পারে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট! হোয়াটসঅ্যাপের নতুন এআই ফিচারের ফাঁদে কি আটকাবে সাইবার প্রতারকরা?

প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ইন্টারনেটের দুনিয়ায় যেমন সুযোগ-সুবিধা বেড়েছে, ঠিক তেমনই পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে সাইবার অপরাধ এবং ডিজিটাল স্ক্যামের ঘটনা। প্রতারকরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ফন্দি এঁটে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলছে। হোয়াটসঅ্যাপ, ইমেল কিংবা সাধারণ ভয়েস কলের মতো অত্যন্ত জনপ্রিয় মাধ্যমগুলিকে হাতিয়ার করেই চলছে এই প্রতারণা চক্র। সামান্য একটু অসতর্কতা বা নজরুলের অভাবেই মুহূর্তের মধ্যে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে গায়েব হয়ে যেতে পারে কষ্টের উপার্জিত লাখ লাখ টাকা। ইতিমধ্যে দেশের বহু মানুষ এই ধরনের মর্মান্তিক সাইবার জালিয়াতির শিকার হয়েছেন। আর এই ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল প্রতারণার হাত থেকে কোটি কোটি ব্যবহারকারীকে সুরক্ষিত রাখতে এবার অত্যন্ত কড়া ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ করল জনপ্রিয় ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ।
মেটার (Meta) মালিকানাধীন এই জনপ্রিয় চ্যাটিং প্ল্যাটফর্মের তরফে খুব শীঘ্রই লঞ্চ করা হতে চলেছে একটি অত্যাধুনিক এবং অত্যন্ত কার্যকরী ‘স্ক্যাম অ্যালার্ট’ (Scam Alert) ফিচার। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই এই নতুন ফিচারটি কিছু নির্বাচিত বিটা টেস্টারদের ডিভাইসে রোলআউট করা হয়েছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফিচারটি যদি একবার সফলভাবে সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হয়, তবে অনলাইন জালিয়াতি এবং স্ক্যামের ঘটনা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। এই নতুন ফিচারের মূল আকর্ষণ হলো এতে অন-ডিভাইস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে, যা ব্যবহারকারীর ফোনকে একটি দুর্ভেদ্য সুরক্ষাবলয় প্রদান করবে।
কীভাবে কাজ করবে এই নতুন স্ক্যাম অ্যালার্ট ফিচার?
হোয়াটসঅ্যাপের এই নতুন স্ক্যাম অ্যালার্ট ফিচারটি সম্পূর্ণভাবে একটি ঐচ্ছিক (Optional) পরিষেবা হিসেবে রাখা হচ্ছে। অর্থাৎ, যে সমস্ত ব্যবহারকারী নিজেদের সুরক্ষার খাতিরে এই ফিচারটি এনাবল বা অন রাখবেন, তাঁদের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে কোনো ক্ষতিকারক বা প্রতারণামূলক স্ক্যাম মেসেজ ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই তা মুহূর্তে সনাক্ত করতে সক্ষম হবে নির্দিষ্ট স্মার্টফোনে থাকা এআই মডেলটি। এরপর ওই মডেলটি ব্যবহারকারীকে তৎক্ষণাৎ সতর্ক করে দেবে এবং ওই নির্দিষ্ট মেসেজের কোনো উত্তর না দেওয়ার পরামর্শ দেবে। এই ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করবে।
মেটা জানিয়েছে, এই ফিচারটি সক্রিয় করার পর হোয়াটসঅ্যাপের নির্দিষ্ট সার্ভার থেকে একটি শক্তিশালী মেশিন লার্নিং মডেল সরাসরি ব্যবহারকারীর স্মার্টফোনে ডাউনলোড হয়ে যাবে এবং তা পুরোপুরি অন-ডিভাইস (On-Device) পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। এর জন্য কোনো থার্ড-পার্টি সার্ভার বা ক্লাউড ডাটা সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। যখনই কোনো অজানা বা সন্দেহজনক নম্বর থেকে মেসেজ আসবে, তখনই এই এআই মডেলটি তার নিজস্ব প্যাটার্নের সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখবে। অতীতে লক্ষ লক্ষ ব্যবহারকারীর করা রিপোর্টের ভিত্তিতে স্ক্যামারদের নির্দিষ্ট প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করে এই মডেলটি তৈরি করা হয়েছে।
নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিয়ে কী জানাচ্ছে মেটা?
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে যে, এআই মডেল মেসেজ পড়লে কি হোয়াটসঅ্যাপের এনক্রিপশন নষ্ট হবে? এই বিষয়ে মেটা স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না। মেসেজগুলি হোয়াটসঅ্যাপের কোনো সার্ভারে পাঠানো হবে না, পুরো প্রসেসিংটি ডিভাইসের ভেতরেই সম্পন্ন হবে। ফলে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকবে আপনার ব্যক্তিগত চ্যাট।