কোনো প্রমাণ ছাড়াই ৬ বছর জেলবন্দি! যোগী সরকারকে নজিরবিহীন কড়া বকুনি দিয়ে মোটা অঙ্কের জরিমানা সুপ্রিম কোর্টের

আইনি তদন্তের নামে সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও সাজানো গল্পের ওপর নির্ভর করে কোনো প্রমাণ ছাড়াই এক নির্দোষ যুবককে টানা ৬ বছর জেলবন্দি রাখার ঘটনায় উত্তরপ্রদেশ সরকারের ওপর চরম ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। চরম অবিচারের শিকার হওয়া আগ্রার বাসিন্দা অরুণ নামে ওই যুবককে অবিলম্বে ১ মাসের মধ্যে ৬ লক্ষ টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য যোগী সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এই টাকা দেওয়া না হলে বার্ষিক ১৮ শতাংশ হারে অতিরিক্ত সুদের জরিমানা গুনতে হবে রাজ্যকে।
তবে বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের ডিভিশন বেঞ্চ ক্ষোভ প্রকাশ করে এও জানিয়েছে যে, এক নির্দোষ যুবকের জীবন থেকে কেড়ে নেওয়া মূল্যবান ৬টি বছরের তুলনায় এই আর্থিক ক্ষতিপূরণের পরিমাণ অত্যন্ত অপ্রতুল।
কী ঘটেছিল অরুণের সঙ্গে?
২০১৯ সালের ১৪ নভেম্বর থেকে আগ্রার অছনেরা থানা এলাকার একটি অপহরণ ও খুনের মামলায় অভিযুক্ত বানিয়ে অরুণকে জেলে পুরে রাখা হয়েছিল। ২০২৬ সালের ২৩ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের কঠোর নির্দেশে নিম্ন আদালতে তড়িঘড়ি বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে কোনো তথ্যপ্রমাণ না থাকায় সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে বেকসুর খালাস পান তিনি।
পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট নিম্ন আদালতের ১০০ পৃষ্ঠার বিস্তৃত রায় পর্যালোচনা করে দেখতে পায়— মূল এফআইআর বা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারার জবানবন্দিতে অরুণের নাম পর্যন্ত ছিল না! শুধুমাত্র অন্য এক অভিযুক্তের ওপর চাপ সৃষ্টি করে নেওয়া পুলিশি স্বীকারোক্তি ও অস্পষ্ট সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে তাকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছিল।
পুলিশের সাজানো গল্প ও আদালতের তীব্র ভর্ৎসনা
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের চরম গাফিলতি ও অপেশাদারিত্বের কড়া সমালোচনা করে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, পুলিশ ‘প্রাথমিক তদন্তটুকুও’ করার প্রয়োজন মনে করেনি।
পুলিশ দাবি করেছিল, ভোজ্য পানীয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় এবং ৫৫ লিটার পেট্রোল কিনে লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয়। কিন্তু যে পেট্রোল পাম্প থেকে পেট্রোল কেনা হয়েছিল তা চিহ্নিত করা, পেট্রোলের ক্যান রাসায়নিকভাবে পরীক্ষা করা বা ঘটনাস্থল ফরেন্সিক টিম দিয়ে খতিয়ে দেখার কোনো তথ্যপ্রমাণই আদালতে পেশ করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি মামলায় উল্লেখিত কঙ্কাল ও হাড়ের ডিএনএ রিপোর্ট পর্যন্ত জমা দিতে ব্যর্থ হয় তারা। তদন্তের নামে পুলিশের তৈরি এই কাল্পনিক গল্পের জন্যই আজ এক নির্দোষ যুবকের ৬টি বছর অকালে হারিয়ে গেল বলে মন্তব্য করেছে সর্বোচ্চ আদালত।