‘কেবিসি’র মঞ্চে চোখের জল ফেললেন স্বয়ং অমিতাভ! ২৪ বছর ধরে মেয়ের মুখ দেখতে না পাওয়া সেই মহিলার মর্মান্তিক কাহিনি জানেন?

‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি ১৮’-এর সাম্প্রতিক পর্বে বিলাসপুরের কপিলা তানেজা তাঁর মর্মান্তিক জীবনের লড়াইয়ের গল্প দিয়ে উপস্থিত সকলকে স্তব্ধ করে দিয়েছেন। কেবিসি হট সিটে বসে তিনি যেমন ৭.৫ লক্ষ টাকা এবং ৯০,০০০ টাকার সুপার বক্স বোনাস জিতেছেন, তেমনই তাঁর জীবনের না বলা যন্ত্রণার কথা শুনে আবেগে ভেঙে পড়েছেন স্বয়ং সঞ্চালক অমিতাভ বচ্চনও।
শ্বশুরবাড়ির অকথ্য নির্যাতন ও প্রাণে বেঁচে ফেরার লড়াই
প্রেম করে বিয়ের পর থেকেই যৌতুক না পাওয়ার কারণে কপিলার ওপর শুরু হয় অকথ্য শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার। শো-তে কপিলা জানান, তাঁর শাশুড়ি তাঁর গায়ে কেরোসিন ঢেলে মোমবাতি জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন। মুহূর্তের মধ্যে তাঁর শাড়ি ও সোয়েটার শরীরের সঙ্গে পুড়ে আটকে যায়। জীবন বাঁচাতে তিনি কোনোমতে একটি জলের ট্যাঙ্কে ঝাঁপ দিয়ে নিজেকে রক্ষা করেন। এই ভয়ঙ্কর ঘটনার পর তিনি প্রায় দুসপ্তাহ অচৈতন্য ছিলেন এবং জ্ঞান ফেরার পর তাঁর দীর্ঘ অস্ত্রোপচার শুরু হয়।
২৪ বছর ধরে মেয়ের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার যন্ত্রণা
শারীরিক যন্ত্রণার থেকেও বড় আঘাত অপেক্ষা করছিল তাঁর জন্য। এই ভয়ংকর দুর্ঘটনার পর কপিলার শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে তাঁর নিষ্পাপ মেয়ের কাছ থেকে জোর করে আলাদা করে দেয়। গত ২৪ বছর ধরে তিনি তাঁর মেয়ের কোনো খোঁজ পাননি, এমনকি তাঁকে চোখের দেখাও দেখতে পাননি। প্রতিবেশীদের মাধ্যমে তিনি শুধু এটুকু জানতে পেরেছিলেন যে তাঁর মেয়ে কাজের সূত্রে অন্য শহরে চলে গেছে।
কপিলার এই হৃদয়বিদারক কাহিনি শোনার পর অমিতাভ বচ্চন জানান, তাঁর সঙ্গে যা ঘটেছে তা কেবল অবিচার বললে কম বলা হবে। শো-এর মাধ্যমেই বিগ বি তাঁর মেয়েকে মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার বিশেষ অনুরোধও জানান। বর্তমানে শিশুদের পড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করা কপিলা কেবিসি থেকে জেতা অর্থ দিয়ে নিজের কৃত্রিম কান লাগানোর অস্ত্রোপচার করাতে চান এবং অবিবাহিত মায়েদের জন্য একটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলার স্বপ্ন দেখেন।