কালীঘাটে মধ্যরাতে রক্তক্ষয়ী তাণ্ডব! জন্মদিনের রাতে সশরীরে রাস্তায় বসে অবস্থান অভিষেকের

জন্মদিনের উৎসবের আবহ ও কালীপুজোর ঠিক আগেই রণক্ষেত্রের রূপ নিল কালীঘাট। ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিনের রাতেই তাঁর বাসভবনের সামনে মমতা তৃণমূল ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ঘটে গেল এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা। গভীর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত দফায় দফায় চলে ধস্তাধস্তি, ইটবৃষ্টি ও হাতাহাতি। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে নিরাপত্তারক্ষীদের অনুরোধ উপেক্ষা করে ক্ষোভে সকাল পর্যন্ত বাড়ির বাইরে রাস্তায় বসে থাকেন সাংসদ নিজেই।
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার গভীর রাতে। শনিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন উপলক্ষে রাত দেড়টা নাগাদ তাঁর কালীঘাটের বাড়ির সামনে ভিড় জমান দলীয় কর্মী ও অনুগামীরা। অভিযোগ, রাত দু’টো নাগাদ আচমকাই বিজেপি কর্মীরা এলাকায় ঢুকে ‘চোর চোর’ বলে কটাক্ষ করতে শুরু করেন এবং অভিষেকের জন্মদিনের ব্যানার, কাটআউট ছিঁড়ে ফেলে। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তৃণমূল কর্মীরা এবং বচসা মুহূর্তে হাতাহাতি ও ইটবৃষ্টিতে রূপ নেয়। দু’পক্ষের অন্তত সাত জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
খবর পেয়েই নিচে নেমে আসেন অভিষেক। পুলিশ এসে এক তৃণমূল কর্মীকে আটক করলে ক্ষোভে ফেটে পড়ে পুলিশের সঙ্গেই তীব্র বাগবিতণ্ডায় জড়ান সাংসদ। পুলিশ তাঁকে ভেতরে যেতে অনুরোধ করলেও তিনি টানা রাত দু’টো থেকে সকাল ছ’টা পর্যন্ত ফুটপাতে বসে অবস্থান শুরু করেন। আটক কর্মীকে পুলিশ ছেড়ে দেওয়ার পর তিনি বাড়ি ফেরেন।
সকালে সিসিটিভি ফুটেজ এক্স (X) হ্যান্ডলে পোস্ট করে বিচারব্যবস্থা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন অভিষেক। তিনি লেখেন, “গত ছয় মাসে এই নিয়ে সাত বার আমাকে প্রাণে মারার চেষ্টা হল। আদালতের নীরবতার সুযোগে দুষ্কৃতীরা তাণ্ডব চালাচ্ছে। ধন্যবাদ, মাই লর্ডস!” পাল্টা ঘটনায় জল ঢেলে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ একে ‘রাজনৈতিক নাটক’ ও ‘সহানুভূতি কুড়োনোর পুরনো কৌশল’ বলে কটাক্ষ করেছেন। আপাতত পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।