গাড়িতে নিষেধাজ্ঞা থেকে নির্মাণে লাল কার্ড! দিল্লির ভয়াবহ বাতাসে আপনার শহরে কী প্রভাব?

দীপাবলির উৎসবেও রেহাই পেল না দেশের রাজধানী। শত চেষ্টার পরেও দিল্লির বাতাসে কোনো উন্নতির লক্ষণ নেই, বরং দূষণের মাত্রা বজায় রয়েছে ‘অত্যন্ত খারাপ’ শ্রেণিতে। বর্তমানে শহরের গড় বায়ু গুণমান সূচক (AQI) ৩৬৬ রেকর্ড করা হয়েছে। পরিস্থিতির টানটান গুরুত্ব বুঝে গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান (GRAP)-এর তৃতীয় পর্যায়ের বিধিনিষেধ কার্যকর করা হলেও বাতাসের মান শুধরে যাওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। শহরের প্রায় ২২টি স্পর্শকাতর এলাকায় AQI মারাত্মকভাবে ৪০০-র গণ্ডি পার করে গিয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে দিল্লির IIT চত্বরে AQI পৌঁছেছে ৪৪২-এ। পাঞ্জাবি বাগে ৪৩৩, বিবেক বিহারে ৪২৭, জাহাঙ্গিরপুরীতে ৪২১ এবং রোহিনীতে ৪১৮ রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া বাওয়ানা (৪১১), DTU (৪০৮), নারেলা (৪০৮) এবং আলিপুরে (৪০২) পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ নিয়েছে। এনসিআর-এর অন্তর্গত নয়ডায় AQI ২৮৪, গাজিয়াবাদে ২৮৬, গুরুগ্রামে ৩৫৫ এবং ফরিদাবাদে ৩৪৭ রেকর্ড করা হয়েছে।

দূষণের এই ভয়াবহ দাপট রুখতে দিল্লি-এনসিআর জুড়ে অপ্রয়োজনীয় নির্মাণ কাজ, ভাঙাভাঙি, পাথর ভাঙার কল এবং খনি সংক্রান্ত কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষাক্ত ধোঁয়া নির্গমন কমাতে পুরনো BS-3 পেট্রল এবং BS-4 ডিজেল চালিত যানবাহনের চলাচলে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। ধুলো নিয়ন্ত্রণে রাস্তায় রাস্তায় জল ছিটানোর পাশাপাশি বিআইএস-৬ মানের যানবাহন ছাড়া দিল্লি শহরে অপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী ও আন্তঃরাজ্য ডিজেল বাসের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বেআইনি ইটভাটা ও হট-মিক্স প্ল্যান্ট বন্ধের সাথে শিশুদের সুরক্ষায় স্কুলগুলোতে অনলাইন ক্লাসের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।