কাজে ব্যস্ত থাকাকালীন হঠাৎই যমে টানল! হাইটেনশন তারের সংস্পর্শে মর্মান্তিক মৃত্যু ৮ শ্রমিকের!

রাজস্থানের ঝুনঝুনু জেলার ছাপোলি গ্রামে রাস্তা নির্মাণের সময় এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মোট আটটি পরিবারের মাথার উপর নেমে এসেছে শোকের কালো ছায়া। কদম কুণ্ডের দিকে যাওয়ার রাস্তায় রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছিল। সেই সময় পাথরকুচি মেশানোর বা রোড়ি মিক্সিংয়ের একটি ভারী যন্ত্র উপর দিয়ে চলে যাওয়া ১১ হাজার ভোল্টের একটি হাইটেনশন বিদ্যুতের লাইনের সরাসরি সংস্পর্শে চলে আসে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো যন্ত্রটিতে প্রচণ্ড পরিমাণে বিদ্যুৎ ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখানে কর্মরত শ্রমিকরা মারাত্মকভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। দুর্ঘটনাটি এত দ্রুত ও ভয়াবহ ছিল যে ঘটনাস্থলেই আটজন শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটে। এ ছাড়া গুরুতর জখম হয়েছেন আরও তিনজন শ্রমিক। একসঙ্গে এতজন শ্রমিকের আকস্মিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা এলাকায় শোকের মাতম শুরু হয় এবং ঘটনাস্থলে প্রচুর মানুষ ভিড় জমান।

জানা গিয়েছে, ছাপোলি গ্রামে কদম কুণ্ডমুখী রাস্তায় এই নির্মাণকাজ চলছিল। রাস্তার কাজে পাথরকুচি মেশানোর জন্য একটি বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছিল। শ্রমিকরা যখন নিজেদের কাজে পুরোদমে ব্যস্ত ছিলেন, তখনই দুর্ভাগ্যবশত যন্ত্রটি মাথার উপর দিয়ে যাওয়া ১১ হাজার ভোল্টের হাইটেনশন লাইনের গায়ে ঠেকে যায়। হাইটেনশন লাইন থেকে মুহূর্তের মধ্যে বিদ্যুৎ যন্ত্রের লোহার অংশে প্রবাহিত হতে শুরু করে। যন্ত্রটির সংস্পর্শে আসায় শ্রমিকরা কেউ কিছু বুঝে ওঠার বা নিজেদের বাঁচানোর বিন্দুমাত্র সুযোগ পাননি। ঘটনাস্থলেই করুণ মৃত্যু হয় আটজন শ্রমিকের।

অন্যদিকে, এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অন্তত তিনজন শ্রমিক গুরুতরভাবে পুড়ে ও জখম হয়েছেন। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের শারীরিক অবস্থাও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার খবর দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের গ্রাম থেকেও প্রচুর মানুষ ছুটে আসেন। শোকস্তব্ধ গ্রামবাসীর ভিড়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। যাঁদের পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিরা এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের বাড়িতে কান্নার রোল থামছে না।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে নির্মাণস্থলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। জনবহুল বা খোলা এলাকায় রাস্তার কাজ চলাকালীন ১১ হাজার ভোল্টের মতো একটি বিপজ্জনক হাইটেনশন লাইনের এতটা কাছাকাছি কীভাবে ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজ করা হচ্ছিল, তা নিয়ে প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। ঠিক কী পরিস্থিতিতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটল এবং সেখানে ন্যূনতম সুরক্ষা বিধি মানা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দফতরের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পরেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার আসল কারণ স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।