করোনা ও রানির মৃত্যুর পর ফের ভয়ানক ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হচ্ছে? ল্যাব দুর্ঘটনায় রাশিয়ায় প্লেগ ছড়াতেই শোরগোল!

সাইবেরিয়ার একটি গবেষণা ল্যাবরেটরিতে টেস্ট টিউব ভেঙে ঘনিয়ে এসেছে বড় বিপত্তি। নিউমোনিক প্লেগের জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ইতিমধ্যেই এক গবেষকের মৃত্যুর খবর মিলেছে এবং প্রায় ২০০ জনকে কোয়ারান্টিনে পাঠানো হয়েছে। ঠিক এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন ব্রিটিশ ভবিষ্যৎদ্রষ্টা ক্রেগ হ্যামিলটন-পার্কার, যিনি ‘প্রফেট অফ ডুম’ হিসেবে পরিচিত। এর আগে কোভিড মহামারি এবং ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী করে তিনি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন ফেলেছিলেন।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর এক ঘোষণায় ক্রেগ দাবি করেছিলেন, ব্যাকটেরিয়াজনিত এক মারাত্মক সংক্রমণ বিশ্বজুড়ে থাবা বসাতে চলেছে, যা সরাসরি মানুষের বুকে বা ফুসফুসে আক্রমণ করবে। তাঁর দাবি ছিল, তিব্বতের দুই সন্ন্যাসী তাঁর বাড়িতে এসে এই আসন্ন বিপদ সম্পর্কে তাঁকে সতর্ক করেছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, এবারের রোগ নিয়ন্ত্রণ আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন ও বিপজ্জনক হবে, কারণ এটি অত্যন্ত দ্রুত ছড়ায়। তবে আশার কথা শুনিয়ে তিনি এও বলেছিলেন যে, প্রযুক্তির বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর সহায়তায় এই মহামারিকেও একসময় রুখে দেওয়া সম্ভব হবে।
এদিকে রাশিয়ার ইরুৎস্ক অ্যান্টি প্লেগ ইনস্টিটিউটে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক দুর্ঘটনা বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছে। ল্যাবরেটরিতে গবেষণার সময় ২৮ বছর বয়সি গবেষক দারিয়া শিপিলোভা নিউমোনিক প্লেগের ব্যাকটিরিয়া সম্বলিত একটি টেস্ট টিউব দুর্ঘটনাবশত ভেঙে ফেলেন। সরাসরি ফুসফুসে আঘাত হানা এই মারাত্মক সংক্রমণে গত ১ অক্টোবর দারিয়ার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনার পর স্থানীয় হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ২০০ জনকে নিভৃতবাসে পাঠানো হয়েছে। যদিও রাশিয়ার পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি, তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, রাশিয়া এই মুহূর্তে কঠিন সমস্যার মধ্যে রয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমেরিকাসহ সমস্ত সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে প্রস্তুত।
বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে রাশিয়া থেকে ছড়ানো প্লেগের আতঙ্ক এবং ‘প্রফেট অফ ডুম’-এর এই চাঞ্চল্যকর ভবিষ্যদ্বাণী মিলে যাওয়ায় জনমানসে তীব্র কৌতূহল ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। আগামী দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।