কবরেও মিলছে না শান্তি! মাত্র ২ বছরেই তুলে ফেলা হচ্ছে লাশ, বিশ্বের ভয়ঙ্কর নিয়মে তোলপাড়

মৃত্যুর পর মানুষকে কবরে সমাহিত করা বহু সংস্কৃতি ও ধর্মের আদি রীতি। সাধারণ মানুষের বিশ্বাস, কবরে যাওয়ার পরই মানুষ চিরতরে শান্তি পায়। কিন্তু বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে কবরস্থানের জমি এখন চরম সংকটে। আর এই জায়গার অভাবেই বিশ্বের একাধিক দেশে চালু হয়েছে এক অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর নিয়ম—নির্ধারিত সময় পর একই কবর ব্যবহার করা হচ্ছে বারবার!

কোথায় কত দিনের নিয়ম? কবর পুনরায় ব্যবহারের এই নিয়ম সব দেশে এক নয়। স্থানীয় আইন ও জমির উপলব্ধির ওপর ভিত্তি করে দেশভেদে রয়েছে ভিন্ন নিয়ম:

  • বাংলাদেশ: কিছু সরকারি কবরস্থানে সাধারণ কবরের মেয়াদ মাত্র দুই বছর পর্যন্ত হতে পারে। এই সময়সীমা পার হলেই ওই একই জায়গায় অন্য মরদেহ দাফন করা হয়। যদিও সাধারণ মানুষের জন্য ১৫ বা ২৫ বছরের জন্য বিশেষ রিজার্ভ কবরস্থানের ব্যবস্থাও রয়েছে।

  • গ্রিস: এই দেশের বেশ কিছু কবরস্থানে দাফনের মাত্র তিন বছর পর মৃতদেহের অবশিষ্ট অংশ তুলে ফেলা হয়। এরপর সেই হাড়গোড়গুলো ‘অস্থি-गृह’ বা নির্দিষ্ট হাড়ের বাক্সে সংরক্ষণ করা হয়।

  • ফ্রান্স ও ব্রিটেন: ফ্রান্সে ৫ থেকে ১৫ বছর, ৩০ বছর কিংবা ক্ষেত্রবিশেষে ৫০ বছরের মেয়াদি কবর দেওয়া হয়। অন্যদিকে ব্রিটেনেও স্থানীয় প্রশাসন ভেদে ২০ থেকে ৫০ বছর পর্যন্ত কবর ব্যবহারের অনুমতি থাকে।

৮ বছরে কি সত্যিই শরীর সম্পূর্ণ গলে যায়? বিজ্ঞান বলছে, শরীর পুরোপুরি শেষ হতে ঠিক কত সময় লাগবে তা নির্দিষ্ট করে বলা অসম্ভব। জার্মানির হ্যানোভার মেডিকেল স্কুলের একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ৮৭টি কবরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রায় ৮ বছর পর শরীরে পচন ধরলেও অনেক ক্ষেত্রে প্রায় ১৭ বছর পরও নরম টিস্যু বা কলার অস্তিত্ব থেকে যায়। মূলত মাটি, আর্দ্রতা, আবহাওয়া এবং তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে মৃতদেহ পচে যাওয়ার গতি।

কেন এই নিয়ম? বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পুরো বিষয়টিকে কেবল ধর্মীয় বা সেন্টিমেন্টাল দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখলে ভুল হবে। মূলত ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা এবং শহরাঞ্চলে জায়গার অভাবের কারণেই প্রশাসন বাধ্য হয়ে এই ধরনের প্রশাসনিক ও সীমিত মেয়াদের কবর ব্যবস্থার পথ বেছে নিচ্ছে।