“ওর খবর শুনে ভেঙে পড়েছিলাম…” মাঝআকাশে রক্তঝরা হামলার পর কপ্টার পাইলট স্মিতের স্ত্রীর মুখে কোন ভয়ংকর সত্যি?

মাঝআকাশে ককপিটের ভেতরে অপ্রত্যাশিত প্রাণঘাতী হামলা সামলে ১৭৪ জন যাত্রীর জীবন বাঁচিয়েছিলেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার। তাঁর অসীম সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্তার প্রশংসায় আজ গোটা বিশ্ব পঞ্চমুখ। কিন্তু এই অসাধ্যসাধনের নেপথ্যে যে চরম মানসিক ঝড় বয়ে গেছে তাঁর পরিবারের ওপর, তা প্রথমবার জনসমক্ষে আনলেন তাঁর স্ত্রী সোনাল মচ্ছার। ফ্লাইদুবাই বিমানের সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার খবর যখন প্রথম বাড়িতে পৌঁছায়, সেই মুহূর্তের আতঙ্ক ও মানসিক অবস্থার কথা জানিয়েছেন তিনি।
‘সিএনএন-নিউজ১৮’-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে সোনাল জানান, স্বামীর ওপর হামলার খবর পাওয়ার পর তিনি সম্পূর্ণ দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। সেই চরম আঘাত সামলে ওঠার মতো মানসিক শক্তিও তখন তাঁর ছিল না। সেই বিভীষিকাময় সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “খবরটা শোনার পর আমি পুরোপুরি শকড হয়ে গিয়েছিলাম। মানসিকভাবে কতটা ভেঙে পড়েছিলাম, তা মুখে প্রকাশ করা অসম্ভব। ঠিক কী করা উচিত, সেটাই আমার মাথা কাজ করছিল না।”
পরিবারের সমর্থন ও স্বামীর বর্তমান অবস্থা এই চরম দুঃসময়ে পরিবার ও বন্ধুদের পাশাপাশি ভারতীয় প্রশাসনিক কর্তাদের তৎপরতা তাঁকে কিছুটা ভরসা জুগিয়েছিল বলে জানান সোনাল। তিনি বলেন, “ওই কঠিন সময়ে বন্ধু, পরিবার এবং সরকারি আধিকারিকরা আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। খবর আসতে শুরু করে যে স্মিত চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন এবং স্থিতিশীল আছেন। তখনই মনের ভেতরের আতঙ্ক কিছুটা কমে।”
সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে গিয়ে হাসপাতালেই স্বামীর সঙ্গে দেখা করেছেন সোনাল। সেখানে সেনার বিশেষ চিকিৎসক দলের তত্ত্বাবধানে স্মিতের চিকিৎসা চলছে। নিজের চোখে স্বামীকে দেখার পর তাঁর উদ্বেগ অনেকটাই হালকা হয়েছে বলে জানান তিনি। আবেগঘন কণ্ঠে সোনাল বলেন, “বৃহস্পতিবার ওর সঙ্গে দেখা হওয়ার পর মনটা কিছুটা শান্ত হয়েছে। আমি জানি ও সঠিক জায়গায় আছে। ইউএই-র অত্যন্ত দক্ষ মিলিটারি ডাক্তাররা ওর যত্ন নিচ্ছেন। এখন আমার একমাত্র প্রার্থনা, ও যেন দ্রুত সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে আমাদের কাছে ফিরে আসে।”
উল্লেখ্য, ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের এই বীরত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও। ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন তিনি।