“ওঁরা শুধু ফটোসেশনের জন্য…” ইন্ডিয়া জোট ও মমতার সমীকরণ নিয়ে দিলীপ ঘোষের বিস্ফোরক মন্তব্য!

জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী জোটের ভবিষ্যৎ এবং তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে জল্পনা। আর এই আবহে এবার প্রকাশ্যে মুখ খুললেন ভারতীয় জনতা পার্টির প্রবীণ ও প্রভাবশালী নেতা দিলীপ ঘোষ। বিরোধী জোটের অন্দরের টানাপোড়েন এবং ক্ষমতার সমীকরণকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে তিনি প্রাক্তন তথা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করেন। দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় স্তরে বিরোধী দলগুলিকে এক ছাতার তলায় আনার প্রচেষ্টা নিয়ে নানা মহলে নানান আলোচনা চলছে। বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেস সহ অন্যান্য আঞ্চলিক দলগুলির পারস্পরিক সম্পর্কের ওঠাপড়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সবসময়ই কৌতূহল বজায় থাকে। এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে বলেন যে, এই জোট আদতে কোনো আদর্শের ভিত্তিতে তৈরি হয়নি। এটি নিছকই স্বার্থের সংঘাত এবং নিজেদের অস্তিত্ব বাঁচানোর একটি মরিয়া চেষ্টা মাত্র। তিনি দাবি করেন, বিরোধী জোটের অন্দরে বিশ্বাসের অভাব রয়েছে এবং সুযোগ পেলেই প্রত্যেকে নিজের স্বার্থ দেখতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অবস্থান এবং জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলীপ ঘোষ কটাক্ষের সুরে বলেন যে, রাজ্যে একরকম নীতি আর দিল্লিতে অন্যরকম কৌশল—এটাই বিরোধীদের মূল চরিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। লোকসভা নির্বাচন কিংবা পরবর্তী সময়ে বিরোধী জোটে শামিল হওয়া নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান বারবার পরিবর্তিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিজেপি নেতার মতে, এই ধরনের সুবিধাবাদী জোট বেশি দিন টেকে না এবং সাধারণ মানুষও এই রাজনৈতিক ধোঁয়াশা ভালোভাবেই বুঝতে পারছেন। আসন্ন রাজনৈতিক ময়দানে এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলেই তাঁর দাবি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দিলীপ ঘোষের এই কড়া আক্রমণ আসলে বিরোধী শিবিরের অন্দরের দুর্বলতাগুলিকে বারবার উসকে দেওয়ার একটি সুচিন্তিত কৌশল। একদিকে যখন বিজেপি বিরোধী শক্তিগুলি নিজেদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখার বার্তা দিচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে এই ধরনের মন্তব্য জোটের মধ্যে আস্থার সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। সব মিলিয়ে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ইন্ডিয়া জোটকে কেন্দ্র করে দিলীপ ঘোষের এই নতুন মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বিরাট শোরগোল ফেলে দিয়েছে এবং আগামী দিনে এর প্রভাব যে রাজ্য রাজনীতির সমীকরণে সুদূরপ্রসারী হবে, তা বলাই বাহুল্য।