“এদের মাইনে সাধারণ মানুষের করের টাকায় হয়!” পুলিশকে চরম নিশানা করে হুংকার অভিষেকের

পুলিশ ও পুরসভার যৌথ অভিযানকে কেন্দ্র করে বুধবার বিকেলে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনায় সরগরম হয়ে উঠল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস চত্বর। কোনো রকম পূর্ব নোটিস বা বৈধ নির্দেশনামা ছাড়াই পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে পুরকর্মীরা তাঁর ব্যক্তিগত কার্যালয়ে জোর করে ঢোকার চেষ্টা করেছেন বলে মারাত্মক অভিযোগ তুলেছেন অভিষেক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে তৃণমূল কর্মীদের দীর্ঘক্ষণ ধস্তাধস্তি ও তুলকালাম পরিস্থিতি তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত সমস্ত বাধা পেরিয়ে ভবনের ছাদে উঠে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ লেখা বিলবোর্ড নামিয়ে নেন পুরকর্মীরা।
ক্যামাক স্ট্রিটে ধুন্ধুমার কাণ্ড
এদিন বিকেলে আচমকাই বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কলকাতা পুরনিগমের আধিকারিকরা ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের কার্যালয়ে হাজির হন। ভবনের বাইরের হোর্ডিং ও বিলবোর্ড সরানোর কাজের জন্য এই অভিযান চালানো হয়। খবর পাওয়া মাত্রই সেখানে ছুটে আসেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সরাসরি পুলিশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে জানতে চান, এই অভিযানের আইনি বৈধতা ও অর্ডারের কপি কোথায়?
অভিষেকের অভিযোগ, পুরসভার নিয়ম বা আইনি প্রক্রিয়া না মেনে স্রেফ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জোর করে তাঁর প্রাইভেট প্রপার্টিতে ঢুকে পড়েছে পুলিশ। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গ্যাস কাটার নিয়ে কেউ ইন্সপেকশন করতে আসে না! অর্ডারে ছবি অ্যাটাচড বলা হলেও কোনো ছবি নেই, কমপ্লেন কবে হয়েছে তারও কোনো ডিটেলস নেই।” পুরসভার থেকে পুলিশের অতিসক্রিয়তা বেশি ছিল বলে অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, “এরা ভুলে গেছে যে এদের মাইনে সাধারণ মানুষের করের টাকায় হয়, বিজেপির বাবারা এদের মাইনে দেয় না!”
বিরোধীদের বিরুদ্ধে তোপ দেগে কী বললেন অভিষেক?
এই পুরো ঘটনাটির তীব্র নিন্দা করে অভিষেক বলেন, “তৃণমূলকে আটকাতে এবং শেষ করতে বিজেপি উপর থেকে অর্ডার দিচ্ছে। কিন্তু এত ভয় কিসের? মানুষের ভোটে নির্বাচিত হলে সভা-মিছিলের অনুমতি দেবেন না কেন? আমাদের পার্টি অফিস ভাঙবেন, বিলবোর্ড খুলবেন—এসব করে তৃণমূলকে আটকানো যাবে না।” তৃণমূল একটি ঘাসফুলের দল উল্লেখ করে তাঁর হুঁশিয়ারি, “ঘাস যত ছাঁটবেন, তা তত বাড়বে। ঘাস কেটে শেষ করা যায় না।”
এদিকে এই বিনা নোটিশে হোর্ডিং উচ্ছেদ অভিযানের জেরে ক্যামাক স্ট্রিট চত্বরে দীর্ঘক্ষণ উত্তেজনা বজায় থাকে। তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরাও সেখানে জড়ো হয়ে তীব্র বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পুলিশ ও প্রশাসনের এই একপেশে ভূমিকার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।