এক ফোঁটা বৃষ্টি পড়েনি, তবুও রাস্তায় গোড়ালি ডোবা জল! জনস্বাস্থ্য দফতরের কাণ্ডে মাথায় হাত সাধারণ মানুষের

আকাশ সম্পূর্ণ পরিষ্কার, কোথাও এক ফোঁটা বৃষ্টির নামগন্ধ নেই। রাস্তাঘাটও ছিল একেবারে শুকনো। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে ঘটে গেল এক অভাবনীয় কাণ্ড। চোখের পলকে চারপাশ জলমগ্ন হয়ে ভেসে গেল ঘরবাড়ির উঠোন। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বৃষ্টি ছাড়াই আচমকা শুকনো রাস্তায় গোড়ালি ডোবা জল দেখে থ বনে গেলেন ঝাড়গ্রাম পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের নৃপেনপল্লী এলাকার বাসিন্দারা। তবে এই জলমগ্নতার নেপথ্যে কোনো প্রাকৃতিক কারণ ছিল না, বরং জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের পানীয় জলের মূল পাইপলাইন ফেটে গিয়েই এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নৃপেনপল্লী এলাকায় জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের ভূগর্ভস্থ পানীয় জলের মূল পাইপলাইন হঠাত্ই ফেটে যায়। আর তার জেরে প্রবল বেগে হু হু করে জল বের হতে শুরু করে। চোখের পলকে আশপাশের রাস্তাঘাট জলমগ্ন হয়ে পড়ে এবং তলিয়ে যায় এলাকার একাধিক বাড়িঘরের নিচতলা। আকস্মিক এই ঘটনায় চরম দুর্ভোগ ও আতঙ্কের মধ্যে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসীর ক্ষোভ, একটানা প্রায় ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা ধরে এভাবেই পাইপ থেকে জল বেরিয়ে গেলেও প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট দফতরের কোনো হেলদোল দেখা যায়নি। বিপুল পরিমাণ মূল্যবান পানীয় জল একদিকে যেমন অপচয় হয়েছে, তেমনই জল ঢুকে যাওয়ায় এলাকার একাংশে যেন একেবারে অকাল বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হয়।

প্রশাসনের ভূমিকা ও উদাসীনতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় মানুষজন। তাঁদের অভিযোগ, পাইপলাইন ফেটে যাওয়ার খবর দেওয়ার পরও দীর্ঘক্ষণ কেটে গেলেও মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অবিলম্বে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পাইপলাইন মেরামত করা এবং জলমগ্ন এলাকা থেকে জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার দাবি তুলেছেন তাঁরা। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, জল অনেকটাই নেমে গেলেও এলাকার পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। প্রকাশ্য রাজপথে পানীয় জলের এই অপচয় ও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে এখন জোরদার শোরগোল শুরু হয়েছে।