এক চিপেই কেল্লাফতে! বিদেশী নির্ভরতা ভেঙে প্রযুক্তি বিশ্বে ইতিহাস ভারতের, টেক বাজারে তোলপাড়

ভারতের সেমিকন্ডাক্টর বিপ্লবে যুক্ত হলো এক নতুন অধ্যায়। বিশ্ব বাজারে বিদেশী চিপ মেকারদের সঙ্গে জোর টক্কর দিতে এবার সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি সিস্টেম-অন-মডিউল (System-on-Module) বা SoM বানিয়ে ফেলল ভারতের এক স্টার্টআপ সংস্থা। আমেদাবাদের চিপ ডিজাইন সংস্থা ‘ইন্ডি সেমি সি’ (IndieSemiC)-এর তৈরি এই যুগান্তকারী মডিউলটি উন্মোচিত হয়েছে সম্প্রতি আয়োজিত ‘SEMICON INDIA 2026’-এর মঞ্চে।
‘সিলিকন টু সিস্টেমস’ (Silicon to Systems) থিমের অধীনে নিয়ে আসা এই টেকনোলজির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এতে প্রসেসর এবং ওয়্যারলেস সংযোগের জন্য আলাদা কোনো যন্ত্রাংশ কিনতে হবে না। একটি মাত্র ছোট্ট চিপেই মিলবে দুটি ক্ষমতার দুর্দান্ত জুগলবন্দি।
কী এই ‘স্বদেশী চিপ’ এবং কীভাবে করবে কাজ?
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো স্মার্ট ডিভাইস তৈরি করতে গেলে এতদিন নির্মাতাদের আলাদাভাবে প্রসেসর এবং ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক মডিউল কিনে সেগুলিকে সার্কিট বোর্ডে জুড়তে হতো। এতে খরচ যেমন বাড়ত, তেমনই জায়গাও বেশি লাগত। ‘ইন্ডি সেমি সি’ তৈরি করেছে ‘ISC-VEGA-SOM’ নামের একটি রেডি-টু-ইউজ ব্লক, যা সরাসরি যেকোনো ডিভাইসে পিন-ইন করা সম্ভব।
দেশীয় প্রসেসর: এই মডিউলে ব্যবহার করা হয়েছে সি-ড্যাক (C-DAC)-এর তৈরি ভারতের নিজস্ব VEGA Thejas32 প্রসেসর।
ওয়্যারলেস কানেক্টিভিটি: প্রসেসরের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন (FCC ও CE সার্টিফায়েড) LoRa অয়ারলেস মডিউল।
সরকারী সমর্থন: কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য-প্রযুক্তিমন্ত্রক (MeitY) এবং C-DAC-এর যৌথ সাপোর্টে তৈরি হয়েছে এই আধুনিক চিপ।
বদলে যাবে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন?
হায়দরাবাদে চলা এই টেক-গ্র্যান্ড ইভেন্টে সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা তথা চিফ মার্কেটিং অফিসার জিন্দাল শাহ জানান, এই উদ্ভাবন শুধুমাত্র কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত স্মার্ট গ্যাজেটে বিপ্লব আনবে।
| ব্যবহারের ক্ষেত্র | সুবিধা ও প্রভাব |
| স্মার্ট এনার্জি মিটার | একফেজ ও তিনফেজের বিদ্যুৎ মিটারে সহজে তথ্য আদান-প্রদান করা যাবে। |
| গ্যাস ও ওয়াটার মিটার | দূর থেকেই নিখুঁতভাবে বিলিং ও রিডিং ট্র্যাক করা যাবে। |
| স্মার্ট সিটি প্রজেক্ট | দূরপাল্লার নিখুঁত নেটওয়ার্ক কভারেজ ও কম খরচে ডিভাইস আপগ্রেডের সুবিধা। |
দীর্ঘদিন ধরে সেমিকন্ডাক্টরের অগ্রগতি বলতে কেবল চিপ বানানোকেই ভাবা হতো। কিন্তু ভারতীয় এই স্টার্টআপ প্রমাণ করে দিল, ভারতীয় চিপকে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার জন্য কীভাবে ব্যবহারযোগ্য সিস্টেমে রূপান্তর করা যায়। এই দেশীয় আবিষ্কার ভবিষ্যতে ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসের দাম কমানোর পাশাপাশি মেনটেন্যান্স অনেকটাই সহজ করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।