একুশে পর্যুদস্ত হয়ে এখন নির্বাচন কমিশনের ঘাড়ে দোষ! মমতাকে তুলোধনা শুভেন্দুর

নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং এসআইআর (SIR) ইস্যু নিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর শাসক দল নির্বাচন কমিশন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে কাঠগড়ায় তুলছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি ২০০-র বেশি আসনে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করেছে, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস ৭০টির কিছু বেশি আসনে আটকে গিয়েছে। জনগণের এই স্পষ্ট রায়কে অস্বীকার করে যারা এসআইআর নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, তারা আসলে প্রত্যক্ষভাবে বাংলার জনমতকেই অবমাননা করছে।
এদিন দলবদলের খোঁচা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস’ নামটি এখন পরিবর্তিত হয়ে একপ্রকার ‘মমতা তৃণমূলে’ পরিণত হয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তৃণমূলের অবস্থান ও নীতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। পাশাপাশি, অতীতে ৩৪ বছরের বাম শাসনের বিরুদ্ধে যে রাজনৈতিক আন্দোলনের ভিত্তির ওপর তৃণমূলের উত্থান হয়েছিল, আজ সেই সিপিআইএমের সঙ্গেই শাসক দলের গোপন আঁতাত তৈরি হয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন শুভেন্দু। সাইবাড়ি, মরিচঝাঁপি, নন্দীগ্রাম এবং নেতাইয়ের মতো নৃশংস রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যে সমস্ত ঘটনার ওপর ভর করে এককালের পরিবর্তন এসেছে, আজ সেই সিপিআইএম কীভাবে তৃণমূলের দোসর হয়ে ওঠে? বিধানসভার অন্দরে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণ এবং যৌথ আন্দোলন সেই বন্ধুত্বেরই স্পষ্ট প্রমাণ দিচ্ছে বলে তাঁর দাবি।
তৃণমূল ও বাম শিবিরের এই কৌশলগত সখ্যতাকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু আরও বলেন, এই সম্পর্ক এখন আর শুধু পশ্চিমবঙ্গ বা বিধানসভার চার দেওয়ালে সীমাবদ্ধ নেই। সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে গোপন ফোনালাপ, চিঠি চালাচালি থেকে শুরু করে যৌথ কর্মসূচির রূপরেখা তৈরি হচ্ছে। এই প্রসঙ্গেই কড়া ভাষায় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আপনাদের যদি এতই জোটের শখ থাকে, তবে শুধু পশ্চিমবঙ্গ বা বিহারে কেন, সুদূর কেরালাতেও গিয়ে সিপিআইএমকে সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবে আন্দোলন করুন।” নির্বাচন পরবর্তী এই রাজনৈতিক তরজায় রাজ্য রাজনীতি এখন চরম উত্তাল।