উত্তরে প্লাবনের ভয়াবহ সঙ্কেত! পাহাড়ে টানা মেঘভাঙা বৃষ্টিতে ফুঁসছে তিস্তা-তোর্সা, লাল সতর্কতা জারি

উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল এবং পার্শ্ববর্তী হিমালয় সংলগ্ন এলাকাগুলিতে গত কয়েক দিন ধরে চলা টানা ও অতি ভারী বৃষ্টির জেরে তীব্র বন্যা পরিস্থিতির মুখে পড়েছে গোটা উত্তরবঙ্গ। উজান থেকে নেমে আসা বিপুল পরিমাণ জলের তোড়ে তিস্তা, তোর্সা, জলঢাকা এবং কালজানির মতো প্রধান নদীগুলির জলস্তর বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। ফলে নিম্নাঞ্চলের একাধিক জেলায় ইতিমধ্যেই মেগা বন্যার সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন।

পাহাড়ের বৃষ্টিতে উত্তাল সমতলের নদী

আবহাওয়া দফতর ও জলসেচ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী:

  • বিপদসীমার ওপরে জলস্তর: কালিম্পং, সিকিম ও ভুটান পাহাড়ে নাগাড়ে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি নদীগুলি থেকে জল হু হু করে সমতলে নেমে আসছে। এর ফলে একাধিক জায়গায় নদীগুলির জলস্তর বিপদসীমার কাছাকাছি বা তা অতিক্রম করে বইছে।

  • সংলগ্ন এলাকায় জারি অ্যালার্ট: জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের নিচু এলাকাগুলিতে প্লাবনের বড় আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বেশ কিছু গ্রামীণ এলাকায় ইতিমধ্যেই নদীর জল ঢুকতে শুরু করেছে।

প্রশাসনের মেগা প্রস্তুতি ও উদ্ধারকাজ

সম্ভাব্য বড় বিপর্যয় সামাল দিতে ইতিমধ্যেই মহকুমা ও জেলা স্তরে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। নদীর তীরবর্তী এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে বা ত্রাণ শিবিরে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করে প্রচার চালানো হচ্ছে।

প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, বিপর্যয় মোকাবিলা দল (NDRF ও SDRF)-কে হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছে এবং তিস্তা ব্যারেজ সহ সমস্ত ড্যামগুলির জল ছাড়ার প্রক্রিয়ার ওপর ২৪ ঘণ্টা কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। পরিস্থিতি অনভিপ্রেত দিকে মোড় নিলে দ্রুত পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।