উত্তরপ্রদেশে খেলা ঘোরাতে নামছে কংগ্রেস! অখিলেশ যাদবকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বড় অঙ্ক কষল হাত শিবির?

দেশের বৃহত্তম রাজ্য উত্তর প্রদেশে কংগ্রেসের রাজনৈতিক দশা বর্তমানে অনেকটাই তামিলনাড়ুর মতো। বিগত প্রায় চার দশক ধরে হিন্দি বলয়ের এই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে দেশের প্রাচীনতম দলটি নিজেদের প্রভাব সম্পূর্ণরূপে হারিয়ে ফেলেছে। বর্তমানে ৪০৩ সদস্যের বিধানসভায় কংগ্রেসের শক্তি বলতে মাত্র দুজন বিধায়ক। তা সত্ত্বেও আগামী বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস হাই কমান্ড উত্তরপ্রদেশে ২০০ আসনের টার্গেট স্থির করেছে। রাজ্য নেতাদের সঙ্গে দলের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর উচ্চপর্যায় বৈঠকে এই বড় অঙ্কের আসন লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সমাজবাদী পার্টির (এসপি) সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা এখন চরম জটিলতার মুখে।
পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে উঠেছে যে, পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের এটাওয়া জেলায় আসন বণ্টন নিয়ে বিরোধের জেরে কংগ্রেসের স্থানীয় নেতারা পর্যন্ত গণপদত্যাগ করেছেন। তাঁদের দাবি, ওই এলাকার পাঁচটি আসনের মধ্যে দুটিতে কংগ্রেস লড়তে চাইলেও এসপি ছাড়তে নারাজ। এই আসনগুলোতে সংখ্যালঘু, দলিত এবং ওবিসি ভোটারদের জোরালো সমর্থন কংগ্রেসের পক্ষে থাকার কথা থাকলেও সমঝোতা না হওয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে। এদিকে, কংগ্রেস নেতৃত্ব জানিয়েছে যে তারা ২০০ আসন চিহ্নিত করে কৌশলগত প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর অর্থ এই নয় যে তাদের ঠিক ২০০ আসনেই ছাড় দিতে হবে। দল দুটি ভাগে এই আসনগুলোকে ভাগ করেছে—প্রথম ভাগে জয়ের শতভাগ নিশ্চয়তা থাকা আসন এবং দ্বিতীয় ভাগে আলোচনার সাপেক্ষে ছাড় পাওয়ার আসন।
অন্যদিকে, কংগ্রেসের এই ২০০ আসনে লড়াইয়ের পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসতেই সপা প্রধান অখিলেশ যাদব তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এখনও পর্যন্ত আসন সমঝোতা নিয়ে সরাসরি কোনো চূড়ান্ত আলোচনায় বসতে রাজি হননি তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৮৫ সালের পর থেকে উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেস আর নিজ জোরে সরকার গড়তে পারেনি। ১৯৯১ সালের পর থেকে তো দলটির ভোটব্যাংক এবং আসন সংখ্যা নিয়মিত তলানিতে ঠেকেছে। ২০১৭ সালে সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে জোট বেঁধেও তারা মাত্র ৭টি আসন জিতেছিল এবং ২০২২ সালের নির্বাচনে একাই লড়ে দলটি মাত্র ২টি আসনেই থমকে গিয়েছিল। বিগত ৩৮ বছরে উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের এই রাজনৈতিক ক্ষয় রুখতে এবার নতুন রাজ্য সভাপতি হিসেবে আরাধনা মিশ্র এবং কার্যকরী সভাপতি হিসেবে ইমরান মাসুদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এখন দেখার, আসন সমঝোতার এই টানাপোড়েন পেরিয়ে কংগ্রেস তাদের হারানো জমি কতটা পুনরুদ্ধার করতে পারে।