উজ্জ্বল শর্মার হুমকি থেকে আর্থিক চাপ! সঞ্চিতা উগলের অকালমৃত্যুর নেপথ্যে কি কোনো রহস্য?

টেলিভিশন অভিনেত্রী সঞ্চিতা উগলের অকালমৃত্যুর পর কেটে গিয়েছে বেশ কয়েক দিন, কিন্তু তাঁর মৃত্যুর রহস্য ক্রমশ জটিল আকার ধারণ করছে। ২২ বছর বয়সী এই উদীয়মান অভিনেত্রীর জীবনপ্রদীপ কেন এত আগে নিভে গেল, তা নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। বর্তমানে তদন্তের কেন্দ্রে উঠে এসেছে সঞ্চিতার কিছু চাঞ্চল্যকর ‘হোয়্যাটসঅ্যাপ চ্যাট’। সূত্রের খবর, মৃত্যুর কয়েক মাস আগে থেকেই তিনি চরম মানসিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। ভয়, অনিদ্রা এবং দুঃস্বপ্নের মতো সমস্যা তাঁকে তাড়া করে ফিরছিল। এক মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গেও তিনি তাঁর উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
ইন্দ্রাক্ষীর নিশানায় উজ্জ্বল শর্মা:
সঞ্চিতার মৃত্যুর পর আঙুল উঠছে সহ-অভিনেতা উজ্জ্বল শর্মার দিকে। অভিনেত্রীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ইন্দ্রাক্ষী কাঞ্জিলালের অভিযোগ, সঞ্চিতা তাঁকে জানিয়েছিলেন যে কর্মক্ষেত্রে উজ্জ্বলের আচরণ তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল। ইন্দ্রাক্ষীর দাবি, সঞ্চিতা শো থেকে সরে আসার পরিকল্পনাও করেছিলেন। শুধু তাই নয়, উজ্জ্বল সঞ্চিতার থেকে টাকা ধার নিয়েছিলেন এবং ফেরত চাইলে উল্টে হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। ইন্দ্রাক্ষীর কাছে এমন কিছু স্ক্রিনশট রয়েছে, যেখানে আপত্তিকর ভাষার ব্যবহারের প্রমাণ রয়েছে। যদিও উজ্জ্বল শর্মা এই সমস্ত অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, সঞ্চিতার ব্যক্তিগত জীবনের অন্য কোনো টানাপোড়েন ছিল, যার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই।
পরিবারের দাবি ও তদন্তের মোড়:
সঞ্চিতার পরিবারও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তাঁদের দাবি, আর্থিক লেনদেন এবং কাজের জায়গার চাপ সঞ্চিতার মৃত্যুর অন্যতম কারণ হতে পারে। গত ১৪ জুন মুম্বইয়ের নালাসোপারার বাড়ি থেকে সঞ্চিতার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ আপাতত ডিজিটাল ফরেনসিক এবং হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট খতিয়ে দেখছে। ‘কুমকুম ভাগ্য’, ‘ওয়াগলে কি দুনিয়া’ এবং ভিকি কৌশলের ‘ছাভা’ সিনেমায় অসাধারণ অভিনয়ের মাধ্যমে যে প্রতিভার ঝলক তিনি দেখিয়েছিলেন, তা আজ বড় প্রশ্নচিহ্নের সামনে। তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।