উচ্চশিক্ষায় আসছে প্রাচীন গণিতশাস্ত্র! ইউজিসির প্রাক্তন প্রধানের নেতৃত্বে রাজ্য সরকারের চমকপ্রদ পদক্ষেপ

বাংলার উচ্চশিক্ষার সিলেবাসে এবার আসতে চলেছে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন। রাজ্যের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখন থেকে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি যুক্ত হতে চলেছে প্রাচীন ভারতীয় গণিতশাস্ত্র এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছে ‘চাণক্য নীতি’। বৈদিক যুগের ঐতিহ্যবাহী গণিত ও শাস্ত্রীয় বিজ্ঞানকে একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ (NEP 2020) অনুসরণ করে রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই এই সিলেবাস পুনর্গঠনের কাজ শুরু করে দিয়েছে।
এই নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা এবং পাঠ্যক্রমের মডেল রূপায়ণের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্সের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (UGC) প্রাক্তন চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম জগদীশ কুমার। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ইন্ডিয়ান নলেজ সিস্টেম’ (IKS)-এর কাঠামোর আদলেই রাজ্য সরকার এই পরিবর্তনের পথ বেছে নিয়েছে। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন আইআইটি-তে পড়ুয়াদের ভারতীয় প্রাচীন জ্ঞানচর্চার সঙ্গে পরিচয় করানো হয়েছে। টাস্কফোর্সের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তথা কল্যাণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কল্লোল পাল জানিয়েছেন, আধুনিক যুগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৈদিক ও প্রাচীন শাস্ত্রীয় নীতিগুলোকেই সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য গাইডলাইন তৈরি করা হচ্ছে।
তবে এই নতুন শিক্ষা পরিকল্পনা নিয়ে শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অভিজিৎ চক্রবর্তী সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন যে, ইউরোপীয় ও আধুনিক বিজ্ঞানের পাশাপাশি প্রাচীন এশীয় বিজ্ঞান চর্চা করা হলে দেশের সুপ্রাচীন ঐতিহ্য পুনপ্রতিষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা নন্দিনী মুখোপাধ্যায় অভিমত প্রকাশ করেছেন যে, একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের অগ্রগতির ওপর বেশি জোর দেওয়া উচিত, আর প্রাচীন জ্ঞানকে মূলত ইতিহাসের অংশ হিসেবে রাখাই যুক্তিসঙ্গত।