ইতালির অত্যাধুনিক মেশিন ধুঁকছে, চালু হল না ‘মোয়া হাব’! জয়নগরের ব্যবসায়ীরা কেন ক্ষুব্ধ?

জিআই ট্যাগ প্রাপ্ত সুস্বাদু ‘জয়নগরের মোয়া’র আন্তর্জাতিক প্রসারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে যে ‘মোয়া হাব’ তৈরির কথা ঘোষণা করা হয়েছিল, সেটি এখনও চালু হয়নি। জয়নগর মজিলপুর এলাকায় প্রায় ২ কোটি ১২ লক্ষ টাকা খরচ করে হাবের বাড়ি তৈরি, ইতালি থেকে অত্যাধুনিক প্যাকেজিং মেশিন আনা এবং মোয়া হাব সোসাইটি গঠন করা হলেও, মোয়ার ভরা মরশুমের শুরুতেও হাবের তালা খোলেনি। এই চরম গাফিলতিতে ক্ষুব্ধ স্থানীয় মোয়া প্রস্তুতকারক ও ব্যবসায়ীরা।
খাদি গ্রামীণ শিল্প বোর্ডের (Khadi Gramin Shilpa Board) তত্ত্বাবধানে জয়নগর মজিলপুর পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের একটি মাঠে প্রায় সাড়ে চার কাঠা জমিতে এই হাবটি তৈরি করা হয়েছিল। মোয়া ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, হাব চালু করার জন্য সবচেয়ে জরুরি কাজ—মেশিন চালানোর প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যবিধি মেনে মোয়ার সংরক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে প্রশিক্ষণ—কোনোটাই দেওয়া হয়নি। ফলে ইতালির আধুনিক প্যাকেজিং মেশিনগুলো বসানো অবস্থাতেই পড়ে রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মোয়া ব্যবসায়ী জানান, “প্যাকেজিং মেশিন কয়েক মাস ধরে হাবে পড়ে আছে। কিন্তু কীভাবে কাজ করতে হবে, তার প্রশিক্ষণই পেলাম না। মোয়ার সিজন শুরু হতে আর কয়েক দিন, অথচ সরকারি উদ্যোগ থমকে।”
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে খাদি গ্রামীণ শিল্প বোর্ডের এক কর্তা দ্রুত হাব চালুর আশ্বাস দিলেও প্রশিক্ষণ না হওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি। তিনি শুধু বলেন, “দেখা হচ্ছে বিষয়টি।” অন্যদিকে, জয়নগর ১ নম্বর ব্লকের শিল্প উন্নয়ন আধিকারিক দায় এড়িয়ে বলেন, “আমি নতুন এসেছি। আমার কিছু জানা নেই এই ব্যাপারে।”
মোয়া হাব চালু না হওয়ায় জয়নগরের সাংসদ প্রতিমা মণ্ডলও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “আমি নিজে বারবার ব্যবসায়ীদের ও প্রশাসনকে নিয়ে মিটিং করে মোয়া হাব সোসাইটি গঠন করে দিয়েছিলাম। তারপরেও হাব চালু করতে কেন এত সময় লাগছে, আমি খোঁজ নিয়ে দেখব।”
২০২২ সালে জয়নগর ১ নম্বর ব্লকের শিল্প উন্নয়ন আধিকারিকের উদ্যোগে ৪০ জন সদস্য নিয়ে জয়নগর মোয়া হাব সোসাইটি গঠিত হয়েছিল। এত টাকা খরচ এবং সরকারি স্তরের তৎপরতার পরেও প্রকল্পের এই বেহাল দশা রাজ্যের গ্রামীণ শিল্প প্রসারের উদ্যোগের উপর প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল।