ইউপি রাজনীতিতে চরম সংঘাত! ‘ABCD’-র নতুন সংজ্ঞা দিয়ে সমাজবাদী পার্টি প্রধানকে কড়া ভাষায় আক্রমণ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

উত্তরপ্রদেশে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই রাজ্য রাজনীতিতে পারদ চড়তে শুরু করেছে। অঙ্কিত বালিয়ান হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষিতে শুরু হওয়া রাজনৈতিক তরজায় এবার সরাসরি সমাজবাদী পার্টি (SP) সুপ্রিমো অখিলেশ যাদবকে আক্রমণ শানালেন জাতীয় লোক দলের (RLD) সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জয়ন্ত চৌধুরী। নাম না করে বিরোধীদের বিরুদ্ধে জাত ও ধর্মের ভিত্তিতে সমাজকে বিভক্ত করার বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
কী অভিযোগ জয়ন্ত চৌধুরীর?
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জয়ন্ত চৌধুরী বলেন যে, রাজ্যের কিছু রাজনৈতিক দল ও নেতা প্রতিটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাকে কেবল ‘জাতির চশমা’ দিয়ে দেখার চেষ্টা করছেন। সমাজকে দ্বিধাবিভক্ত করতে এবং রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে পরিকল্পিতভাবে হিংসা ও तनाव ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
‘ABCD’-র নতুন ব্যাখ্যা
বিরোধী নেতাদের নিশানা করে জয়ন্ত বলেন, আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিউজ ও সস্তা জনপ্রিয়তা পেতে সঠিক-ভুলের বাছবিচার না করেই অনেকে ভিত্তিহীন মন্তব্য করছেন। এই প্রসঙ্গে ‘ABCD’-র নতুন ও কড়া সংজ্ঞা দিয়ে তিনি বোঝান যে, আজকের রাজনীতিতে এই আদ্যক্ষরগুলির আসল অর্থ হওয়া উচিত—অহংকার (Arrogance), দুর্নীতি (Corruption), চুরি (Hate/Theft) এবং প্রতারণা (Deception)। অন্যদিকে, প্রয়াত ‘চৌধুরী চরণ সিং’-এর আদর্শের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন যে, গুরুজনদের সম্মান করা, চরিত্র ও ধৈর্য বজায় রাখাই আসল রাজনীতি, যা আজকের দিনে একাংশের মধ্যে অনুপস্থিত।
লখনউয়ের ‘তহজিব’ ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে মন্তব্য
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন যে, লখনউয়ের ক্ষমতার বৃত্তে বসে থাকা কিছু ব্যক্তি উত্তরপ্রদেশকে ফের একবার অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছেন। আগে নিজেরাই রাজ্যে অশান্তি তৈরি করে পরে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সরকারের মুণ্ডপাত করা হচ্ছে বলে তোপ দাগেন তিনি। উত্তরপ্রদেশের প্রাচীন সংস্কৃতি এবং লখনউয়ের ঐতিহ্যবাহী ‘তহজিব’ বজায় রাখার বার্তা দিয়ে সমস্ত রাজনৈতিক দলকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জয়ন্ত চৌধুরী।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: অঙ্কিত বালিয়ান হত্যাকাণ্ড ঘিরে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে এই মুহূর্তে জাত ও আইনের শাসন নিয়ে যে বাহাস তৈরি হয়েছে, তা আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।