আলুবীজ থেকে ফুড প্রসেসিং—কোচবিহারের এই বিশাল শিল্প প্রকল্পে চমকে যাবে সবাই!

উত্তরবঙ্গ তথা কোচবিহার জেলায় শিল্পের এক নতুন ও সুবর্ণ দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করে রাজ্য সরকার এবার কোচবিহার জেলায় দ্বিতীয় একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্প কেন্দ্র গড়ে তোলার এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সীমান্তবর্তী এই জেলার মেখলিগঞ্জ এলাকায় প্রায় ৩৮৭ একর বিশাল সরকারি জমি এই মেগা প্রকল্পের জন্য বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই এই জমির যাবতীয় খুঁটিনাটি বিবরণ রাজ্যের শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ দফতরকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছে এবং জমি হস্তান্তরের প্রাথমিক প্রক্রিয়াও জোরকদমে শুরু হয়ে গিয়েছে। আগামী নভেম্বর মাসেই রাজ্য সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ দল মেখলিগঞ্জের ওই এলাকা পরিদর্শনে যাবে বলে প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমানে কোচবিহারের একমাত্র শিল্প কেন্দ্রটি চকচকা এলাকায় অবস্থিত। পশ্চিমবঙ্গ শিল্প পরিকাঠামো উন্নয়ন নিগমের (WBIIDC) উদ্যোগে সেখানে ইতিমধ্যে ৮০টিরও বেশি বিভিন্ন ধরনের শিল্প ইউনিট সফলভাবে গড়ে উঠেছে এবং তারা স্থানীয় অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। তবে এই সাফল্যের পরিধিকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই এবার দ্বিতীয় কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেখলিগঞ্জের চিহ্নিত এই জমিটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি বিখ্যাত চ্যাংরাবান্ধা স্থলবন্দরের অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থিত। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথের এই সুবিনের ফলে এখানে বড় শিল্প গড়ে উঠলে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা অত্যন্ত সহজ ও সুলভ হবে। দূরদূরান্তের উদ্যোক্তারা এই আন্তর্জাতিক গেটওয়ের সুবিধা কাজে লাগিয়ে সহজেই দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের পণ্য পৌঁছে দিতে পারবেন। জেলা প্রশাসনের জোরালো বিশ্বাস, এই ভৌগোলিক সুবিধা বড় বড় শিল্পপতিদের বিনিয়োগের জন্য তীব্রভাবে আকৃষ্ট করবে।

নতুন এই শিল্প কেন্দ্রে মূলত খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ (Food Processing) শিল্পকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। কোচবিহারের বিশ্বখ্যাত আলু, হলদিবাড়ির মিষ্টি টমেটো এবং প্রচুর পরিমাণে উৎপাদিত পাটের বীজ স্থানীয় কাঁচামাল হিসেবে সরাসরি ব্যবহার করা সম্ভব হবে, যার ফলে জেলার অন্নদাতা কৃষকরাও অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক উপকৃত হবেন। কাঁচামালের সহজলভ্যতার পাশাপাশি এই কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে অন্যান্য আনুষঙ্গিক শিল্পও দ্রুত গড়ে উঠতে পারে। এই বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ আসার ফলে উত্তরবঙ্গের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য কর্মসংস্থানের অফুরন্ত সুযোগ তৈরি হবে এবং তাঁদের আর কাজের সন্ধানে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে হবে না, বরং ঘরের কাছেই তাঁরা উপযুক্ত কর্মসংস্থান খুঁজে পাবেন।

কোচবিহারের জেলাশাসক জিতিন যাদব সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, দ্বিতীয় শিল্প কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার এই প্রস্তাবটি বর্তমানে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে এবং জমি সংক্রান্ত কোনো জটিলতা বা সমস্যা নেই। জেলা প্রশাসন সমস্ত সম্ভাব্য উপায়ে বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদের সর্বাত্মক সাহায্য করতে প্রস্তুত রয়েছে। রাজ্যের শিল্প দফতর সমস্ত দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ বিষয়ে খুব শীঘ্রই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক অর্থনৈতিক রূপান্তর ঘটানোর লক্ষে রাজ্য সরকার দীর্ঘদিন ধরেই এই অঞ্চলের শিল্পায়নের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে আসছে। মেখলিগঞ্জের এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তা কেবল কোচবিহার জেলার নয়, বরং গোটা উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক চিত্রে এক বিরাট বিপ্লব ঘটাবে বলেই ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা।