আর বাড়বে না বিমানের ভাড়া! সাধারণ যাত্রীদের স্বস্তি দিতে সরকারের নজিরবিহীন ‘মাস্টারস্ট্রোক’!

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের (ATF) লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের জন্য বিমানের সফর প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছিল। উৎসবে বা জরুরি পরিস্থিতিতে বিমান সংস্থাগুলির যথেচ্ছ ভাড়া হাঁকানোর বিরুদ্ধে এবার কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল কেন্দ্র সরকার। অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের জারি করা ঐতিহাসিক ‘ভারতীয় বায়ুযান নিয়ম, ২০২৬’ অনুযায়ী, এবার থেকে বিশেষ বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে জনস্বার্থে টিকিটের দামে সরাসরি হস্তক্ষেপ করার আইনি ক্ষমতা নিজের হাতে তুলে নিল সরকার।

নতুন এই নিয়মের ১৯২ নম্বর ধারা অনুযায়ী, বিমান সংস্থাগুলিকে তাদের পরিচালনা খরচ সহ সামগ্রিক হিসাবের ভিত্তিতে টিকিট মূল্য নির্ধারণ করে সম্পূর্ণ তথ্য ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশনের (DGCA) কাছে জমা দিতে হবে। যদি ডিজিসিএ বা কেন্দ্র বুঝতে পারে যে বাজারে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কিংবা এয়ারলাইন্সগুলি অতিরিক্ত ভাড়া হাঁকাচ্ছে, তবে কেন্দ্রীয় সরকার লিখিত নির্দেশিকার মাধ্যমে সাথে সাথে বিমান ভাড়ায় নির্দিষ্ট সীমার ছাদ (Price Cap) বেঁধে দিতে পারবে। ১৯৯৪ সালে ভারত সরকার বিমান ভাড়ার উপর থেকে নিয়ন্ত্রণ তুলে নিয়েছিল। দীর্ঘ ৩২ বছর পর জনস্বার্থে টিকিটের দামে কেন্দ্র ফের হস্তক্ষেপের আইনি আইকন ফিরিয়ে আনল।

পাশাপাশি যাত্রীদের প্রতারণা রুখতে ভাড়ার সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। বেস ফেয়ার, ট্যাক্স, ফুয়েল সারচার্জ, ক্যানসেলেশন ফি সহ সমস্ত লুকানো খরচ এখন থেকে টিকিট কাটার সময় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। বিমান সংস্থাগুলো যাতে কোনো বিভ্রান্তিকর অতিরিক্ত ফি না আদায় করতে পারে, তার জন্য ডিজিসিএ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলিতে কড়া নজরদারি চালাবে।