‘আমার বুকের উপর বুলডোজার চালান!’ মধ্যরাতে রণংদেহী মূর্তিতে রাস্তায় নেমে বিস্ফোরক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

মধ্যরাতে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। কলকাতার কালীঘাটে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির বাইরে রাতের অন্ধকারে ঘটে যাওয়া হুলুস্থুল কাণ্ডের পর সরাসরি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কালীঘাট থানার নতুন ওসিকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পষ্ট অভিযোগ, তাঁর বাড়ির ঐতিহাসিক বারোয়ারি কালীপুজো ইচ্ছাকৃতভাবে বানচালের গভীর চক্রান্ত করা হচ্ছে। মাঝরাতে রাস্তায় নেমে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘‘কালীঘাট থানার নতুন ওসি, আপনার কী কী ক্ষমতা আর কত প্রমোশন পাবেন, তা আমার খুব ভালো করেই জানা আছে। মনে রাখবেন, সাধারণ মানুষের জনরোষ ও জনবিস্ফোরণ একবার শুরু হলে তা কোনোভাবেই থামানো যায় না।’’
এদিন কার্যত রণংদেহী মেজাজে কালীঘাটের রাজপথে নেমে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘সারারাত ধরে এখানে যা তা কান্ড কারখানা চালানো হচ্ছে। যে রাস্তার মোড়ে আগে কোনোদিন পুজো হতো না, সেখানে এখন পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হচ্ছে। যদি এতই ক্ষমতা থাকে, তবে আমার বুকের উপর দিয়ে বুলডোজার চালিয়ে দেখান। গোটা ঘটনাটি একটি সুপরিকল্পিত হুলিগানিজম বা গুণ্ডামি ছাড়া আর কিছুই নয়। আমি কেন ‘ইন্ডিয়া’ জোটে (INDIA Alliance) যুক্ত আছি, সেই আক্রোশ থেকেই বারবার আমাদের ওপর এই ধরনের বর্বরোচিত হামলা চালানো হচ্ছে।’’
তাঁর আরও অভিযোগ, ‘‘আমার ঘরের অন্দরে পুজো হয়, সেখানে সাধারণ মানুষ বা ভক্তরা আসবেন কীভাবে? অথচ পুলিশ প্রশাসন এসবের কোনো তোয়াক্কাই করছে না। উলটে অন্যায়ভাবে ১৬৩ ধারা জারি করা হচ্ছে। পুলিশ নিজেরা পদে পদে অবস্ট্রাকশন তৈরি করছে এবং সম্পূর্ণ অবৈধভাবে অনুমতি দিয়ে যাতায়াতের রাস্তা আটকে দিচ্ছে।’’ মধ্যরাতের এই আকস্মিক রাজনৈতিক সংঘাতে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশি ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বড়সড় বিতর্ক দানা বেঁধেছে।