২০০০ কোটির ছবিতে থেকেও ব্রাত্য! নীতীশ তিওয়ারির ‘রামায়ণ’ থেকে বাদ পড়লেন কোন পরিচিত অভিনেতা?

পরিচালক নীতীশ তিওয়ারির বহু প্রতীক্ষিত এবং মেগা বাজেট ছবি ‘রামায়ণ: পার্ট ওয়ান’ বড় পর্দায় মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য অর্জন করেছে। বিশ্বজুড়ে ইতিমধ্যেই ছবিটি মাত্র দু’দিনেই ২০০ কোটির ক্লাবে প্রবেশ করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। রণবীর কাপুর এবং দক্ষিণী সুপারস্টার যশের মতো তারকারা এই ছবিতে তাঁদের অনবদ্য অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মন জয় করে নিচ্ছেন। তবে ছবির এই অভাবনীয় সাফল্যের মাঝেই সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২০০ কোটি টাকার বিশাল বাজেট এবং মেগা স্টারদের ভিড়ে নিখুঁত সম্পাদনার খাতিরে এই মহাকাব্যিক প্রজেক্ট থেকে রাতারাতি বাদ পড়ে গিয়েছেন এক জনপ্রিয় অভিনেতা। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই চলচ্চিত্রপ্রেমী মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, ছবিটিতে ভগবান রামের বিশ্বস্ত মন্ত্রী তথা সারথি ‘সুমন্ত’-এর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করার কথা ছিল অভিনেতা সত্যেন চতুর্বেদীর। সম্প্রতি অভিনেতা নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু নেপথ্য বা বিটিএস (BTS) ছবি শেয়ার করে এই জল্পনায় সিলমোহর দিয়েছেন। ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা ওই ছবিগুলিতে দেখা গেছে যে, রামায়ণের সেটে তাঁর চরিত্রের জন্য সাজানো রাজকীয় পোশাক ও হরেক রকমের গয়না সুসজ্জিত অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছিল যে, এত বড় বাজেটের এবং বহুল আলোচিত এই ছবিতে শেষ পর্যন্ত তাঁকে পর্দায় দেখা গেল না কেন?

এই প্রশ্নের উত্তর নিজেই দিয়েছেন অভিনেতা সত্যেন চতুর্বেদী। একটি দীর্ঘ ও আবেগঘন ক্যাপশন লিখে তিনি জানিয়েছেন যে, ছবির ফাইনাল কাট বা চূড়ান্ত সংস্করণ যখন প্রস্তুত করা হয়, তখন এডিটিং টেবিল বা সম্পাদনার মারপ্যাঁচে তাঁর সমস্ত দৃশ্যই বাদ দেওয়া হয়েছে। এত বড় একটি ছবি থেকে নিজের চরিত্র বাদ পড়া নিয়ে কোনো রাখঢাক না রেখে সত্যেন অত্যন্ত উদার মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, একজন পেশাদার অভিনেতার করা সমস্ত দৃশ্য সবসময় চূড়ান্ত ছবিতে জায়গা পাবে, এমন কোনো কথা নেই। এটি সিনেমা তৈরির দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর যাত্রাপথেরই একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং অবিচ্ছেদ্য অংশ।

সত্যেন আরও জানান, পর্দায় তাঁর দৃশ্যগুলি না থাকলেও, এই মহাকাব্যিক এবং ঐতিহাসিক প্রকল্পের অংশ হওয়ার সুযোগ পাওয়াটাই তাঁর কাছে এক আজীবন স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। চরিত্রটির জন্য তাঁকে নির্বাচন করার জন্য তিনি কাস্টিং ডিরেক্টর মুকেশ ছাবরাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। কোনো ধরনের ক্ষোভ বা অনুশোচনা ছাড়াই তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, ছবি থেকে তাঁর অংশ বাদ পড়লেও এই চমৎকার ও পবিত্র যাত্রার স্মৃতি তাঁর সঙ্গে সারাজীবন থাকবে। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি এই অভিজ্ঞতাকে জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি হিসেবে মেনে নিয়েছেন।