‘আমাকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হয়েছে!’ ২৩ ঘণ্টা অন্ধকূপে আটকে থেকে বিস্ফোরক সুরেন্দ্রনাথ কলেজের প্রিন্সিপাল

হাজিরা বা উপস্থিতির হার ৪০ শতাংশের কম থাকার জেরে একঝাঁক পড়ুয়াকে পরীক্ষায় বসতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজে। আর এই ঘটনার জেরে এবার চরম হেনস্থার শিকার হতে হলো কলেজের প্রিন্সিপাল মহম্মদি তরন্নুমকে। টানা ২৩ ঘণ্টা ঘরে অবরুদ্ধ থাকার পর শুক্রবার পুলিশের সহযোগিতায় বেরিয়ে এলেন তিনি, আর এসেই আনলেন বিস্ফোরক সব অভিযোগ।

কী ঘটেছিল সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজে? কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, পড়ুয়াদের উপস্থিতির হার কম থাকায় এ বছরের সেমিস্টারের ফর্ম ফিলাপ স্থগিত করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এর পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন ছাত্রছাত্রীরা। কলেজে সকাল সাড়ে ছটায় ক্লাস চালুর নির্দেশ দেওয়া হলেও যাতায়াতের সমস্যায় অনেকে উপস্থিত হতে পারেননি। এরপর থেকেই শুরু হয় বিক্ষোভ। প্রিন্সিপাল মহম্মদি তরন্নুমের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য শিক্ষকদের ঘর থেকে বের করে দিয়ে তাঁকে একটি ঘরে তালাবন্ধ করে রাখা হয়। এমনকি জলের সংযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল। প্রায় অন্ধকারের মধ্যে তাঁকে জোর করে পদত্যাগপত্রে সই করানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ।

প্রিন্সিপালের বিস্ফোরক দাবি: কলেজ চত্বর ছাড়ার সময় মহম্মদি তরন্নুম স্পষ্ট ভাষায় জানান, তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেননি, বরং তাঁকে জোর করে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হয়েছে। তাঁর ওপর অকথ্য মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পুরো ঘটনার উচ্চপর্যায়ী তদন্ত চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপের আর্জি জানিয়েছেন তিনি। শিক্ষা মহলে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।