আপনার সন্তান কি গোপনে ফোনে অ্যাডাল্ট জিনিস দেখছে? এই গোপন সেটিংস অন করলেই মিলবে মুক্তি!

বর্তমান যুগে ছোটবেলা থেকেই শিশুদের হাতে স্মার্টফোন তুলে দেওয়া যেন এক প্রকার ডালভাত হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনলাইন ক্লাস হোক কিংবা বিনোদন, গ্যাজেট ছাড়া এক পাও চলা যায় না। কিন্তু এই সুবিধার আড়ালেই লুকিয়ে রয়েছে এক বিরাট বিপদ। অজান্তেই বাচ্চারা জড়িয়ে পড়ছে ভয়ংকর সব ডিজিটাল আসক্তি ও অনুপযুক্ত কনটেন্টের জালে।
কী ধরনের ঝুঁকি রয়েছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটু বয়স না হতেই স্মার্টফোনের অবাধ ব্যবহারে শিশুরা সহজেই অ্যাডাল্ট ভিডিও, অশালীন ছবি বা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তৈরি বিভিন্ন ক্ষতিকর ওয়েবসাইটের মুখোমুখি হচ্ছে। ভুলবশত বা কৌতূহলের বশে এই ধরনের কনটেন্ট তাদের কচি মনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে, যা তাদের মানসিক বিকাশকে ব্যাহত করতে পারে। শুধু তাই নয়, সাইবার বুলিং বা অপরিচিত কুরুচিকর মানুষের ফাঁদে পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই এখন থেকেই প্রতিটি বাবা-মায়ের সতর্ক হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
আইফোন (iPhone)-এ কীভাবে সুরক্ষিত রাখবেন?
আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপল একটি দারুণ বিল্ট-ইন ফিচার রেখেছে, যার নাম ‘স্ক্রিন টাইম’ (Screen Time)।
প্রথমে সেটিংস থেকে Screen Time ওপেন করে ‘Content & Privacy Restrictions’ অন করুন এবং একটি শক্তপোক্ত পাসওয়ার্ড সেট করুন যাতে বাচ্চা নিজে থেকে তা বন্ধ করতে না পারে।
এরপর Content Restrictions-এ গিয়ে ‘Limit Adult Websites’ অপশনটি সিলেক্ট করুন। এর ফলে সমস্ত অশালীন ও ক্ষতিকর ওয়েবসাইট স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্লক হয়ে যাবে।
বয়স অনুযায়ী অ্যাপের রেটিং (যেমন 12+ বা 17+) সেট করে দিন এবং অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ডাউনলোড বা কেনাকাটার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করুন।
অ্যান্ড্রয়েড (Android) ফোনে কী করবেন?
অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য ‘Google Family Link’ অ্যাপটি অত্যন্ত কার্যকরী। আপনার ফোনে এই অ্যাপ ইনস্টল করে সন্তানের ফোনের সঙ্গে লিঙ্ক করে নিলে আপনি দূর থেকেই নজর রাখতে পারবেন।
বাচ্চা কোন কোন অ্যাপ ব্যবহার করছে বা কতক্ষণ স্ক্রিনে সময় কাটাচ্ছে (Screen Time), তা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।
Google Play Store-এ গিয়ে Parental Controls অন করে দিন, যাতে বয়স অনুপযুক্ত কোনো অ্যাপ ডাউনলোড না হয়।
এছাড়া ক্রোম ব্রাউজারে ‘SafeSearch’ অন রাখলে অনুপযুক্ত সার্চ রেজাল্ট থেকে সন্তানকে দূরে রাখা সম্ভব। ইউটিউবের ক্ষেত্রেও ‘Restricted Mode’ অন করে দেওয়া বাধ্যতামূলক।
অভিভাবকদের জন্য জরুরি কিছু টিপস:
টেকনোলোজির পাশাপাশি বাবা-মায়ের সচেতনতাই সবচেয়ে বড় ঢাল। মাঝেমধ্যে সন্তানের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলুন, হঠাৎ ফোন কেড়ে না নিয়ে তাকে বুঝিয়ে বলুন কেন কিছু জিনিস ক্ষতিকর। কখনোই বাচ্চার শোওয়ার ঘরে ফোন রাখতে দেবেন না এবং রাতে ফোন ঘরের বাইরে চার্জে বসানোর অভ্যাস করুন। একটু সচেতনতা আর সঠিক সেটিংসের মাধ্যমেই আপনার সন্তানকে ইন্টারনেটের অন্ধকার জগত থেকে সুরক্ষিত রাখতে পারেন।