“আধার কার্ডের গড়মিল থেকে ভুয়া পরিচয়!”-কোন ভুলে হাজতবাস বাড়ল CJP নেতাদের?

আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বারবার নিষিদ্ধ এলাকায় প্রতিবাদের ডাক দেওয়ায় কড়া পদক্ষেপ করল দক্ষিণ-পশ্চিম জেলার স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (SEM)। জামিনদারদের নথিতে গুরুতর অসঙ্গতি এবং বিশ্বাসযোগ্যতার অভাবে CJP (Campaign for Judicial Accountability and Reforms / সংশ্লিষ্ট সংগঠন)-র দুই শীর্ষ নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা-র জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে গিয়েছে। এর ফলে আগামী ২১ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতেই থাকতে হবে।
জামিন আটকে গেল কোথায়? কী বলছে আদালত?
প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ ও বারবার আবেদনের পর দুই জামিনদারের নথি খতিয়ে দেখতে পৃথকভাবে অনুসন্ধান চালায় আদালত। আর তাতেই বেরিয়ে আসে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য:
প্রথম জামিনদার: বন্ডের ছবির সঙ্গে তাঁর আধার কার্ডের ছবির মিল পাওয়া যায়নি। এমনকী এই অসঙ্গতির সপক্ষে তিনি কোনও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা বা অন্য কোনও বৈধ পরিচয়পত্রও পেশ করতে পারেননি। আদালতের মতে, তাঁর দেওয়া তথ্য অত্যন্ত অস্পষ্ট ছিল।
দ্বিতীয় জামিনদার: সৌরভ দাসের জামিনদার হিসেবে উপস্থিত হওয়া ওই ব্যক্তি সৌরভের পারিবারিক পরিচয় ও ঠিকানা সংক্রান্ত প্রাথমিক তথ্যই দিতে ব্যর্থ হন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, অভিযুক্তদের ঠিক সময়ে আদালতে হাজির করানোর ক্ষেত্রে এই জামিনদারদের ভূমিকা কতটা নির্ভরযোগ্য হবে, তা নিয়ে বড়সড় সন্দেহ রয়েছে। বিকল্প জামিনদার উপস্থিত না থাকায় তাঁদের নথি খারিজ করে নতুন জামিনদার জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা ও আদালতের কড়া বার্তা
নথির গোলযোগ ছাড়াও দুই নেতার অতীত আচরণ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আদালত। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী:
১১ অক্টোবরের জমা দেওয়া বন্ড ইচ্ছাকৃতভাবে লঙ্ঘন করে ফের শান্তিভঙ্গ করেছেন অভিযুক্তরা।
ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না করার যে আশ্বাস তাঁরা দিয়েছেন, তা বিশ্বাসযোগ্য মনে করেনি আদালত।
নিষিদ্ধ ঘোষিত এলাকায় বারবার প্রতিবাদের ডাক দেওয়ার প্রবণতাকে আইনকে অবমাননা করার সামিল বলেই মনে করা হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা পক্ষের যুক্তি বনাম বিচারপতির রায়
আইনজীবীদের দাবি ছিল, গত ১০ অক্টোবরের পর সৌরভ ও আশুতোষ নতুন করে কোনো প্রতিবাদের ডাক দেননি এবং ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি হবে না। তবে তদন্তকারী அதிகாரীর পেশ করা তথ্য এবং জনশান্তি বিঘ্নিত হওয়ার বাস্তব আশঙ্কার কথা মাথায় রেখে সেই যুক্তিতে সায় দেয়নি আদালত।
আপাতত ২১ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজত বহাল রেখেই দুই পক্ষকে লিখিত বক্তব্য জমা দেওয়ার জন্য দু’দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।