আগুনের গ্রাসে লাইবেরিয়ার জাহাজ! কিংদাও বন্দরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিভে গেল ২৫টি তাজা প্রাণ!

পূর্ব চিনের শানডং প্রদেশের ব্যস্ততম কিংদাও বন্দরে নোঙর করে থাকা একটি বিদেশি মালবাহী জাহাজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ২৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া এগারোটা নাগাদ জাহাজটিতে হঠাৎ করেই আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে লেলিহান শিখা পুরো জাহাজে ছড়িয়ে পড়ে এবং আশেপাশের এলাকা ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়, যা গোটা চিনা জুড়ে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
দুর্ঘটনার সময় লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ১৯০ মিটার দীর্ঘ ‘ওশান মেলোডি’ নামের ওই জাহাজটিতে মোট ৪২ জন আরোহী ও কর্মী উপস্থিত ছিলেন। গত ৩১ আগস্ট কিংদাওয়ের বেইহাই শিপইয়ার্ডে জাহাজটির মেরামতের কাজ চলছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, কোনো বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা না গেলেও হঠাৎ করেই জাহাজ থেকে কুণ্ডলী পাকিয়ে ঘন ধোঁয়া বের হতে দেখা যায় এবং নিমেষেই তা ভয়াবহ রূপ নেয়। আগুন লাগার খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকল ও জরুরি উদ্ধারকারী দল। দীর্ঘ প্রায় তিন ঘণ্টার নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন তাঁরা।
উদ্ধারকর্মীরা সাহসিকতার সঙ্গে অভিযান চালিয়ে মোট ১৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে আহত অবস্থায় দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। তবে বাকিদের বাঁচানোর সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ঘটনাস্থলেই ২৫ জনের প্রাণহানি ঘটে। বিশ্বের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই বন্দরে এমন বিপর্যয় কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।
ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই নড়েচড়ে বসেছে বেজিং প্রশাসন। চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং অবিলম্বে নিখোঁজদের উদ্ধার এবং এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার নেপথ্যে থাকা কারণ খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, দেশের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্যোগ এড়াতে সমস্ত শিপইয়ার্ড এবং কারখানায় অগ্নিনির্বাপণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোরভাবে পর্যালোচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। সম্প্রতি চিনের আরেকটি শিপইয়ার্ডে বিস্ফোরণের ঘটনার পর এই ভয়াবহ বিপর্যয় দেশের শিল্পাঞ্চলগুলিতে সুরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতিকে আরও একবার তীব্রভাবে সামনে নিয়ে এল।