আইসা সভাপতি নেহা বোরাকে দিল্লি হাইকোর্টের ধাক্কা! শান্তি বন্ড মামলায় বড় বিপাকে ছাত্রনেত্রী

দিল্লি হাইকোর্ট অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (AISA)-এর জাতীয় সভাপতি নেহা বোরাকে এক বড় আইনি ধাক্কা দিয়ে দিল্লি পুলিশের পাঠানো শান্তি বজায় রাখার বন্ড সংক্রান্ত নোটিশে হস্তক্ষেপ করতে পরিষ্কার অস্বীকার করেছে। বিচারপতি সুব्रमण্যম প্রসাদের একক বেঞ্চ নেহার আবেদন খারিজ করে জানিয়ে দিয়েছে যে, স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (SEM)-এর এই পদক্ষেপ কোনো অন্ধ বা অনুমানভিত্তিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি ছয়টি এফআইআর এবং বিভিন্ন ঘটনার জেনারেল ডায়েরি (GD) এন্ট্রির মতো শক্ত রেকর্ড ও প্রমাণের ওপর সম্পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত।

আদালত তার ৪৬ পাতার বিস্তারিত রায়ে স্পষ্ট করেছে যে, যে এলাকায় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ প্রদর্শনের ডাক দেওয়া হয়েছিল, তা একটি অত্যন্ত জনবহুল ও সংবেদনশীল বাণিজ্যিক অঞ্চল। সেখানে বহু গুরুত্বপূর্ণ অফিস, ব্যাংক, হোটেল এবং ব্যস্ত রাস্তা রয়েছে, যা শহরের মূল অংশকে যুক্ত করে। ফলে ওই এলাকায় শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-এর ধারা ১২৬ এবং ১৩০-এর বিধান অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যথেষ্ট আইনি উপাদান ও তথ্য ছিল। যদিও আদালত পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে যে, তদন্তের সময় যেন নেহা বোরাকে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি সরবরাহ করা হয় এবং বন্ডের নির্দেশ দেওয়ার সময় প্রাকৃতিক ন্যায়ের নীতি যেন কঠোরভাবে বজায় থাকে।

আদালতের এই রায়ের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের কঠোর অবস্থানের কথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন আইসা সভাপতি নেহা বোরা। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি কোনো অবস্থাতেই পুলিশি শর্ত মানবেন না এবং শান্তি বন্ডে কোনোভাবেই স্বাক্ষর করবেন না। আইনি মহলের ধারণা, হাইকোর্টের এই আদেশের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বন্ড না দিলে পুলিশের পরবর্তী কড়া পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে পারেন এই ছাত্রনেত্রী। অন্যদিকে, এই ঘটনার পাশাপাশি সিজেপি (CJP) কার্যকর্তা সৌরব দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার মামলাতেও নতুন মোড় এসেছে, যেখানে ক্রাইম ব্রাঞ্চের সমন ও রিমান্ড সংক্রান্ত প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।