অষ্টম বেতন কমিশনে কি ন্যূনতম বেতন ৭২ হাজার টাকা হবে? ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নিয়ে এল বড় আপডেট!

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আলোর পথে অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission)। বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের এই অস্থায়ী কমিশন ইতিমধ্যেই তাদের ১৮ মাসের মেয়াদের অর্ধেকের বেশি সময় পার করে ফেলেছে। ২০২৭ সালের মে-জুন নাগাদ কমিশনের চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা পড়ার কথা। আর তার আগেই বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের তরফে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নিয়ে যে দাবিগুলি উঠেছে, তাতে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে।
কমিশনের মূল কাজের মধ্যে রয়েছে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর, বেতন সংশোধন, ভাতা ও পেনশন সংস্কারের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা। এই ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরই ঠিক করে দেয় পরবর্তী বেতন সংশোধনে কর্মীদের মূল বেতন ঠিক কতটা বাড়বে। ইতিপূর্বে ষষ্ঠ বেতন কমিশনে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ছিল ১.৮৬ এবং সপ্তম বেতন কমিশনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২.৫৭, যার জেরে ন্যূনতম মূল বেতন ১৮,০০০ টাকায় উন্নীত হয়েছিল।
তবে এবার কর্মচারী ইউনিয়নগুলির দাবি অতীতের সমস্ত রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ভারতীয় প্রতিরক্ষা মজদুর সংঘ (BPMS) সর্বোচ্চ ৪.০০ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের জোরালো দাবি তুলেছে। এটি কার্যকর হলে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ন্যূনতম মূল বেতন একলাফে বেড়ে সোজা ৭২,০০০ টাকা হতে পারে। অন্যদিকে, এনসি-জেসিএম (NC-JCM) স্টাফ সাইড এবং ভারত পেনশনার্স সমাজের প্রস্তাব ৩.৮৩৩ ফ্যাক্টর, যাতে ন্যূনতম বেতন দাঁড়াতে পারে ৬৯,০০০ টাকা। এছাড়া সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার মিনিস্টেরিয়াল স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের দাবি অনুযায়ী ৩.৬১ ফ্যাক্টর ধরলে ন্যূনতম বেতন হবে প্রায় ৬৫,০০০ টাকা।
যদিও বিভিন্ন সংগঠনের এই প্রস্তাবগুলি নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে, তবুও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত একমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারের হাতেই ন্যস্ত রয়েছে। আগামী বছর রিপোর্ট জমা পড়ার পরই স্পষ্ট হবে মোদী সরকার কোন ফর্মুলায় সিলমোহর দেয়। তবে এই একটিমাত্র সিদ্ধান্ত যে আগামী এক দশক ধরে দেশের কোটি কোটি সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীর আর্থিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দেবে, তা বলাই বাহুল্য।