অবশেষে খুলছে বেহালা বিমানবন্দরের ভাগ্য! দক্ষিণ কলকাতা থেকে কবে থেকে উড়বে বিমান? বড় ঘোষণা মন্ত্রীর

দীর্ঘদিন ধরে চরম অবহেলায় পড়ে থাকা দক্ষিণ কলকাতার ঐতিহাসিক বেহালা বিমানবন্দরকে এবার ফের সম্পূর্ণরূপে সচল করার জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করার জন্য মঙ্গলবার খোদ রাজ্য সরকারের ক্রীড়ামন্ত্রী তথা বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক ইন্দ্রনীল খাঁ সরাসরি নতুন দিল্লিতে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী রামমোহন নাইডু কিঞ্জারাপুরের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। ওই বৈঠকে মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ স্পষ্টভাবে বেহালা বিমানবন্দর থেকে দ্রুত যাত্রীবাহী বিমান পরিষেবা চালু করার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেশ করেন।

বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ইন্দ্রনীল খাঁ জানান যে, এই বিমানবন্দরটি সম্পূর্ণরূপে চালু হলে দক্ষিণ কলকাতা তো বটেই, পাশাপাশি ডায়মন্ড হারবার এবং সংলগ্ন সুন্দরবন এলাকার সাধারণ মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে এক বিরাট সুবিধা তৈরি হবে। এর ফলে আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক অভূতপূর্ব গতি আসবে। এই পুরো বিষয়টিকে ত্বরান্বিত করার জন্য রাজ্যের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী একটি বিশেষ চিঠিও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গোটা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করার এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, বেহালা এই বিমানবন্দরে বর্তমানে ৯১৫ মিটার দীর্ঘ একটি রানওয়ে রয়েছে, যা বর্তমান সময়ে ATR-72 জাতীয় প্যাসেঞ্জার বিমান, জরুরিকালীন এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স এবং ছোট আকারের চার্টার্ড ফ্লাইটের যাতায়াতের জন্য সম্পূর্ণভাবে উপযুক্ত। বিমানবন্দরটি যদি পুনরায় নিয়মিত চালু করা সম্ভব হয়, তবে দমদমের নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপর থেকে জনবহুল ও যানজটের অতিরিক্ত চাপ অনেকটাই কমে যাবে। এছাড়া দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা সহ সমগ্র দক্ষিণবঙ্গে পর্যটন শিল্পের বিকাশ, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে রোগী স্থানান্তরের মতো ক্ষেত্রগুলিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা বহুলাংশে সহজ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন স্থানীয় শহরবাসী ও সচেতন নাগরিকরা।

দীর্ঘদিন ধরে বেহালা বিমানবন্দরটি বিভিন্ন কারণে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল। তবে বর্তমান নতুন সরকারের আমলে এই বিমানবন্দরটি চালু করার বিষয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হওয়ায় বিভিন্ন মহলে খুশির হাওয়া দেখা দিয়েছে। কলকাতার শিল্পোন্নয়ন, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সামগ্রিক বিকাশ, আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা এবং জরুরি চিকিৎসায় দ্রুত বিমান পরিষেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বেহালা বিমানবন্দরটি যে কতটা অপরিহার্য, তা এদিনের বৈঠকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে বিস্তারিতভাবে বুঝিয়ে বলেন ইন্দ্রনীল খাঁ। একই সঙ্গে এই বিমানবন্দরটিকে অবিলম্বে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য জোরদার অনুরোধও জানানো হয়েছে।