অন্ধকার কাটিয়ে অবশেষে আলোর পথে জেপিএনআইসি! যোগী সরকারের বড় পদক্ষেপে বদলে যাচ্ছে লখনউয়ের বিখ্যাত এই কেন্দ্রের চেহারা

দীর্ঘ বছর ধরে লখনউয়ের গোমতী নগরে একপ্রকার অসম্পূর্ণ ও পরিত্যক্ত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকা ‘জয়প্রকাশ নারায়ণ আন্তর্জাতিক কেন্দ্র’ বা জেপিএনআইসি (JPNIC) অবশেষে অন্ধকার কাটিয়ে আলোর পথে ফিরতে চলেছে। সমাজবাদী পার্টির আমলে লোকনায়কের নামে শুরু হওয়া এই মেগা প্রকল্পটি বছরের পর বছর ধরে রাজনৈতিক বিতর্ক, প্রশাসনিক অবহেলা এবং জনগণের অর্থ অপচয়ের এক অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকলেও, বর্তমান যোগী আদিত্যনাথ সরকারের নতুন নীতি ও দূরদর্শী পদক্ষেপে এর আমূল পরিবর্তনের সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে।

আকাশবাণী লখনউয়ের প্রাক্তন সংবাদ পাঠক তথা প্রবীণ সাংবাদিক প্রেম কান্ত তিওয়ারির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০১৩ সালে যখন এই প্রকল্পের প্রাথমিক পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তখন এর আনুমানিক খরচ ধরা হয়েছিল ২৬৫.৫০ কোটি টাকা। কিন্তু অত্যন্ত বিস্ময়করভাবে মাত্র তিন বছরের মধ্যে, অর্থাৎ ২০১৬ সাল নাগাদ সেই খরচ একলাফে বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় ৮৬৪.৯৯ কোটি টাকায়—যা প্রাথমিক অনুমানের তুলনায় প্রায় ২২৬ শতাংশ বেশি। যেকোনো বড় পরিকাঠামো প্রকল্পে খরচ কিছুটা বাড়া স্বাভাবিক হলেও, প্রায় তিনগুণ ব্যয় বৃদ্ধির পরও প্রকল্পটির কাজ অসম্পূর্ণই থেকে গিয়েছিল। ফলস্বরূপ, সাধারণ মানুষ ট্যাক্সের পুরো টাকা দিয়েও বিনিময়ে কেবল একটি অসম্পূর্ণ ও অব্যবহৃত শ্বেতহস্তীসম ভবন ছাড়া আর কিছুই পায়নি।

তবে এই দীর্ঘ অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে লখনউ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (LDA) বর্তমানে এক নতুন ও আধুনিক মডেলের মাধ্যমে এর কার্যক্রম পরিচালনার পথ পরিষ্কার করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন ব্যবস্থাপনায় এই কেন্দ্রটি চালু হলে তা জনসাধারণের ওপর কোনো বাড়তি আর্থিক বোঝা না চাপিয়েই লখনউ শহরের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে আন্তর্জাতিক স্তরে আরও অনেক বেশি শক্তিশালী করে তুলবে। দীর্ঘদিনের এই জটিল ও বিতর্কিত পরিকাঠামো অবশেষে জনকল্যাণে ব্যবহারের উপযোগী হওয়ার পথে এগো নেওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন শহরবাসী।

Pratik Saha
  • Pratik Saha