শ্যাম্পু বদলেও কমছে না চুল পড়া? আপনার চিরুনিই কি ডেকে আনছে সর্বনাশের দিন?

আজকের দিনে চুল পড়া বা হেয়ার ফল যেন প্রতিটি ঘরে এক নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাথার চুল রক্ষার্থে আমরা বাজার চলতি কত না দামি শ্যাম্পু, কন্ডিশনার কিংবা হেয়ার সিরামের পেছনে হাজার হাজার টাকা খরচ করি। কিন্তু একটু গভীরভাবে ভেবে দেখলে দেখা যাবে, চুল ঝরে পড়ার আসল কারণটি লুকিয়ে থাকে আমাদেরই ঘরের এক অত্যন্ত সাধারণ এবং অবহেলিত জিনিসের মধ্যে, যার নাম চিরুনি। প্রতিদিন চুল আঁচড়ানোর পর আমরা চিরুনির সঠিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার কথা ভুলেই যাই। ফলস্বরূপ, চিরুনির দাঁতে জমে থাকা মৃত ত্বক বা ড্যান্ড্রফ, ময়লা, অতিরিক্ত তেল এবং লক্ষ লক্ষ অদৃশ্য ব্যাকটেরিয়া পুনরায় মাথার তালুতে ফিরে আসে, যা চুলের গোড়াকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে তোলে।

ডার্মাটোলজিস্ট এবং হেয়ার কেয়ার বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্বাস্থ্যকর ও ময়লা চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ালে মাথার স্ক্যাল্পে ফাঙ্গাল ইনফেকশন এবং খুসকির উপদ্রব বহুগুণ বেড়ে যায়। এর জেরে চুল ভাঙতে শুরু করে এবং চুল পড়ার মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পায়। অনেকেই নিয়মিত চুল পরিষ্কার করলেও চিরুনি ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন না। প্রতিবার চুল আঁচড়ানোর সময় চিরুনিতে আটকে থাকা চুলগুলো ফেলে দিলেও সেখানে লেগে থাকা খুসকি ও তেলের আস্তরণ থেকে যায়। এই অবহেলাই ধীরে ধীরে মাথার ত্বককে অসুস্থ করে তোলে এবং চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।

এই মারাত্মক সমস্যা থেকে চিরতরে মুক্তি পেতে হলে অবিলম্বে চিরুনি পরিষ্কারের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বিশেষজ্ঞরা সপ্তাহে অন্তত একবার ঈষদুষ্ণ গরম জল এবং শ্যাম্পু দিয়ে চিরুনি ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন। কাঠের চিরুনি হলে তা নিয়ম করে রোদে শুকিয়ে জীবাণুমুক্ত করা উচিত। এছাড়া কখনোই অন্যের চিরুনি ব্যবহার করা বা নিজের চিরুনি অন্যকে দেওয়া উচিত নয়, কারণ এর মাধ্যমে স্ক্যাল্পের ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। সঠিক শ্যাম্পু ব্যবহারের পাশাপাশি যদি চিরুনির পরিচ্ছন্নতার প্রতি সামান্য সচেতন হওয়া যায়, তবে অতিরিক্ত চুল পড়ার এই ভয়ংকর সমস্যা থেকে সহজেই রেহাই পাওয়া সম্ভব।