সাবধান! অজান্তেই অকেজো হচ্ছে কিডনি? এই ভুলগুলো অবিলম্বে বন্ধ না করলে বিপদ!

আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো কিডনি। রক্ত পরিশ্রুত করা, শরীর থেকে ক্ষতিকারক টক্সিন বা বর্জ্য পদার্থ বাইরে বের করে দেওয়া এবং তরলের ভারসাম্য বজায় রাখা—সবই একা হাতে সামলায় এই অঙ্গটি। তবে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, কিডনির সমস্যা বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই শুরুতে কোনো স্পষ্ট লক্ষণ প্রকাশ করে না। তাই একে ‘সাইলেন্ট কিলার’ বলা হয়ে থাকে। দৈনন্দিন জীবনের কিছু অনিয়ম ও অসচেতনতার কারণে আমাদের অজান্তেই কিডনি মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, সময় থাকতে কয়েকটি অতি সাধারণ অভ্যাসে বদল আনলেই কিডনিকে দীর্ঘকাল সম্পূর্ণ সুস্থ রাখা সম্ভব।

প্রথমত, পর্যাপ্ত জল পান করা কিডনি স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে জলের অভাব হলে কিডনি সঠিকভাবে টক্সিন বের করতে পারে না, যা পরবর্তীকালে কিডনি স্টোন ও অন্যান্য জটিলতার সৃষ্টি করে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক অন্তত ২ থেকে ৩ লিটার জল পান করা উচিত। দ্বিতীয়ত, খাদ্যাভ্যাসে লবণের (সোডিয়াম) পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি। কাঁচা লবণ খাওয়ার অভ্যাস এবং অতিরিক্ত প্রসেসড বা প্যাকেটজাত খাবার কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে এবং রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। তাই যতটা সম্ভব তাজা শাকসবজি ও ফলমূল খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত।

তৃতীয়ত, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঘন ঘন যন্ত্রণানাশক বা পেইনকিলার (NSAIDs) খাওয়ার মারাত্মক মানসিকতা ছাড়তে হবে। দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ব্যথানাশক ওষুধ খেলে তা সরাসরি কিডনির ফিল্টারগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। পাশাপাশি, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রাখা জরুরি। কারণ এই দুটি শারীরিক অবস্থাই কিডনি বিকল হওয়ার প্রধান কারণ। নিয়মিত শরীরচর্চা করা, ধূমপান ও মদ্যপানের অভ্যাস ত্যাগ করা এবং বছরে অন্তত একবার কিডনি ফাংশন টেস্ট (eGFR ও ক্রিয়েটিনিন) করানো অত্যন্ত দরকারি। সামান্য সতর্কতা ও সঠিক জীবনযাপনই পারে আপনার কিডনিকে সুরক্ষিত রাখতে।