সংলাপ নেই, তবুও কাঁপছে ওটিটি! নরখাদকের চরিত্রে অভিনয় করে ভাইরাল বাংলার এই অভিনেতা, শিউরে উঠবেন!

তথাগত মুখার্জির পরিচালনায় জি ফাইভ বাংলায় সদ্য মুক্তি পেয়েছে নতুন থ্রিলার ঘরানার সিরিজ ‘নিব্বা নিব্বি’। মুক্তির পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে সিরিজটি নিয়ে দারুণ উন্মাদনা লক্ষ করা গেছে। এই ওয়েব সিরিজে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে নজর কেড়েছেন অভিনেতা দেবাশিস রায়। গল্পে তাঁকে অভিনেতা শঙ্কর চক্রবর্তীর অ্যাসিস্টেন্ট বা সহকারী ভানুর চরিত্রে দেখা গিয়েছে। তবে ভানু সাধারণ কোনো মানুষ নয়, সে আসলে একজন রক্তমাংসের ক্যানিবাল বা নরখাদক!

সিরিজটিতে দেবাশিসের চরিত্রের স্ক্রিন টাইম খুব একটা দীর্ঘ না হলেও, তাঁর অভিনয় দক্ষতা ইতিমধ্যেই দর্শক মহলে এবং সমালোচকদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। সম্পূর্ণ সংলাপহীন এই ব্যতিক্রমী চরিত্রে অভিনয় করার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে সম্প্রতি ‘আজকাল ডট ইন’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেবাশিস মুখ খোলেছেন। তিনি জানান, “তথাদা (তথাগত মুখার্জি) যখন প্রথম আমায় এই চরিত্রটার কথা বলেন, আমি মনে‌ মনে ভেবেছিলাম চরিত্রটা করব না। কিন্তু পরে যখন তথাদা পুরো চিত্রনাট্যটা আমায় শোনান, তখন থেকেই আমার এক্সাইটমেন্ট বহুগুণ বেড়ে যায়। যেকোনও অভিনেতার কাছেই ভানুর মতো এমন একটি চ্যালেঞ্জিং চরিত্র পাওয়াটা একটা বিরাট বড় ব্যাপার। এই চরিত্রটার মুখে কোনো ডায়লগ বা সংলাপ নেই, কিন্তু সে মানুষের মাংস খেতে ভালোবাসে। এর পাশাপাশি চরিত্রটির স্ক্রিন প্রেজেন্স অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। সবচেয়ে বড় কথা, এই চরিত্রটা আমায় আমার আগের সমস্ত চেনা কমেডি ধাঁচের চরিত্র থেকে পুরোপুরি বের করে এনেছে, যার জন্য আমি তথাদাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।”

নিজের সুদীর্ঘ অভিনয় জীবন এবং ক্যারিয়ারের চড়াই-উতরাই নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অভিনেতা আরও যোগ করেন, “প্রায় ১১ বছর কড়া স্ট্রাগল বা লড়াই করার পর আমি ‘অপরাজিত’ ছবিতে কাজের সুযোগ পাই। তারপর আবার কয়েক বছর আমার হাতে কোনো কাজ ছিল না। তবে পরবর্তীতে ‘পারিয়া’ ও ‘রাস’ ছবির সুযোগ আমার দরজায় কড়া নাড়ে। আসলে আমি ভীষণ বেছে বেছে চরিত্র বা কাজ করতে পছন্দ করি। এই কথা অস্বীকার করব না যে মাঝে আমার কাছে কাজ আসেনি, কাজ ঠিকই এসেছিল, কিন্তু আমার মনের মতো শক্তিশালী চরিত্র না পাওয়ায় আমি রাজি হইনি। একটা সময় ইন্ডাস্ট্রিতে রটে গিয়েছিল যে দেবাশিস রায় ভালো চরিত্র ছাড়া অভিনয় করে না। এই কথাটা একেবারে সত্যি। আমি বরাবরই এমন কিছু বিশেষ চরিত্রের অপেক্ষায় থাকি, যা পর্দায় জীবন্ত হয়ে ওঠে এবং যার দ্বারা দর্শকরা দীর্ঘদিন আমায় মনে রাখবেন।”