রূপোলি পর্দার বাইরেও ছিলেন ‘দাপুটে’ শুটার! নানা পাটেকরের অজানা অধ্যায় জানলে শিউরে উঠবেন

ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। বৃহস্পতিবার ভোরে গোয়ায় নিজের বাসভবনে আচমকা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে প্রয়াত হয়েছেন বর্ষীয়ান ও দাপুটে অভিনেতা নানা পাটেকর। হিন্দি ও মারাঠি চলচ্চিত্রে তাঁর অনন্য অভিনয় দক্ষতা সর্বজনবিদিত হলেও, পর্দার আড়ালে তাঁর এক সম্পূর্ণ অন্য রূপ ছিল, যা অনেকেরই অজানা। খেলাধুলো, বিশেষ করে ক্রিকেটের প্রতি তাঁর অগাধ ভালোবাসার পাশাপাশি নানা ছিলেন একজন পেশাদার এবং জাতীয় স্তরে পদকজয়ী রাইফেল শুটার।

নানার এই শুটিং যাত্রার শুরুটা নিছক শখ থেকে হয়নি। ১৯৯১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তাঁর সাড়াজাগানো ছবি ‘প্রহার’-এর এক কড়া সেনাকর্তার চরিত্রের জন্য তিনি ভারতীয় সেনার কাছে কঠিন প্রশিক্ষণ নেন। সেই ট্রেনিং থেকেই আগ্নেয়াস্ত্রের প্রতি গভীর অনুরাগ জন্মায়, যা পরবর্তীতে তাঁর আজীবন নেশায় পরিণত হয়। চল্লিশ বছর বয়স পেরোনোর পর পেশাদার শুটিং রেঞ্জে তাঁর হাতেখড়ি হয় এবং ষাট বছর বয়স পেরিয়ে যাওয়ার পরও তিনি জাতীয় ও রাজ্যস্তরের প্রতিযোগিতায় সমান তালে অংশ নিয়ে যান।

প্রতিযোগিতামূলক শুটিংয়ে তাঁর সাফল্য ছিল ঈর্ষণীয়। ২০০৪ সালে ইন্দোরে ৪৮তম জাতীয় শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপের ৩০০ মিটার বিগ-বোর ইভেন্টে তিনি নিখুঁত নিশানায় রুপোর পদক জিতে নেন। এর তিন বছর পর, ২০০৭ সালে মহারাষ্ট্রের হয়ে দলগত ইভেন্টে জেতেন ব্রোঞ্জ পদক। ৬০০-র মধ্যে ৫৪৯ স্কোর করে ব্যক্তিগত র‍্যাঙ্কিংয়ে ১২তম স্থান দখল করায় তাঁকে বিশেষ ‘রিনাউন্ড শট’ খেতাবে ভূষিত করা হয়। এর সুবাদে তিনি বিনা শুল্কে বিদেশি রাইফেল আমদানির আইনি ছাড়পত্রও পেয়েছিলেন।

শুধু নিজের খেলাতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না নানা, নতুন প্রজন্মের শুটারদের পাশেও তিনি দাঁড়িয়েছিলেন ত্রাতা হিসেবে। শুটিং অত্যন্ত ব্যয়বহুল খেলা হওয়ায় বহু উঠতি প্রতিভার প্রশিক্ষণ ও কার্তুজ কেনার খরচ তিনি নিজের পকেট থেকে জোগাতেন। জাতীয় স্তরের শুটারদের শুধু পদক নয়, আর্থিক পুরস্কার দেওয়ার পক্ষেও তিনি সবসময় জোরালো সওয়াল করেছিলেন। তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের পাশাপাশি ক্রীড়াজগতেও এক বিরাট শূন্যতার সৃষ্টি হলো।