বিগ বসের ঘর থেকে সোজা কলকাতার বিমানবন্দরে! এসেই কোন বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি দিলেন অভিনেত্রী নন্দিনী দত্ত?

বিগ বসের বিলাসবহুল ঘরের আড়াই মাসের দীর্ঘ রোমহর্ষক সফর কাটিয়ে অবশেষে তিলোত্তমা শহর কলকাতায় ফিরে এলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী নন্দিনী দত্ত। বিমানবন্দর থেকে বেরিয়েই বাবাকে বুকে জড়িয়ে ধরার সেই আবেগঘন মুহূর্ত যেমন নজর কেড়েছে, তেমনই তাঁর এই সফরকে ঘিরে তৈরি হওয়া নানা বিতর্ক নিয়েও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে নন্দিনী জানান, এই দীর্ঘ সফর অত্যন্ত ভালো এবং মিশ্র অনুভূতির মধ্য দিয়ে কেটেছে। রিয়ালিটি শোয়ের নিয়ম মেনে দেখতে দেখতে এই আড়াই মাস কীভাবে কেটে গিয়েছে, তা তিনি টের পাননি। তবে নিজের ভুল যে হয়েছে, তা স্বীকার করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করেননি এই অভিনেত্রী।

নন্দিনীর কথায়, বিগ বসের ঘরের কঠোর নিয়ম ভাঙার খেসারত তাঁকে দিতেই হয়েছে। তিনি অকপটে স্বীকার করেন যে, এক মুহূর্তের জন্য তিনি ভুলে গিয়েছিলেন রাজবীর কেবল তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের প্রেমিক নন, তিনি এই শোয়ের অন্য দশজন প্রতিযোগীর মতোই একজন স্বাধীন প্রতিযোগী। খেলার খাতিয়ে বা আবেগের বশে ঘটে যাওয়া সেই অনভিপ্রেত ঘটনার জন্য তিনি দর্শকদের রায় সম্পূর্ণ মাথা পেতে মেনে নিয়েছেন। এই পুরো যাত্রা তাঁকে জীবনে হার মানতে এবং নতুন পাঠ শেখাতে সাহায্য করেছে বলে তিনি মনে করেন। তবে নিজের খেলা শেষ হলেও, তাঁর প্রিয় মানুষ রাজবীর দে-ই যেন এই গেমের বিজয়ী হন, সেই আশাই ব্যক্ত করেছেন নন্দিনী।

শো চলাকালীন রাজবীরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং শারীরিক উত্তেজনার মুহূর্তগুলি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে সমালোচনার ঝড় বয়েছিল, সে প্রসঙ্গেও মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী। দর্শকদের একাংশের তীব্র সমালোচনা এবং নিজের ভুল আচরণের জন্য তিনি ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে প্রকাশ্যে ক্ষমাও চেয়ে নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন যে, ভালোবাসার তীব্রতা এবং অতিরিক্ত আবেগের বশে এমন কিছু সীমারেখা পার হয়ে গিয়েছিল, যা কখনোই হওয়া উচিত ছিল না। নিজের সহ-প্রতিযোগী তথা সঙ্গীর মনে আঘাত হানার জন্য তিনি গভীরভাবে অনুতপ্ত। তবে এই পুরো অভিজ্ঞতাকে সঙ্গে নিয়েই তিনি মাথা উঁচু করে জীবনের আগামী পথ চলতে চান।

নন্দিনীর এই বিদায় ও পুরো ঘটনা প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন তাঁর বাবা-মাও। অভিনেত্রীর মায়ের কাছে তাঁর মেয়েই এই খেলায় সর্বেসর্বা জয়ী। অন্যদিকে তাঁর বাবা সাফ জানিয়েছেন, প্রিয় মানুষের ওপর অধিকার ফলানো বা সামান্য বসা-বসি নিয়ে রাগ দেখানো অনেক সাধারণ পরিবারেই ঘটে থাকে। রাজবীরকে শুরুর দিকে কে চিনত? নন্দিনী নিজেই তো তাঁকে সর্বতোভাবে সমর্থন জুগিয়েছিল। ঘরে ঘটে যাওয়া সেই ‘ভ্যাম্পায়ার বনাম মানুষ’ টাস্কের জেরে আংটি হারানো এবং তার জেরে তৈরি হওয়া অশান্তির সূত্রপাত কীভাবে চরম আকার ধারণ করেছিল, তা নিয়েও দর্শকদের মনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। তবে সমস্ত বিতর্ক পিছনে ফেলে নন্দিনী এখন নতুন করে নিজের শহর কলকাতায় স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে প্রস্তুত।