বাঙালি নন, তবুও ঋত্বিক ঘটকের টানে সিনেমা বানালেন পাঞ্জাবি পরিচালক অনুপ সিং! মুক্তি পেল ‘একটি নদীর নাম’

তিনি পঞ্জাবের ছেলে, জন্ম ও বেড়ে ওঠা সুদূর তানজানিয়ায়। তবুও বাংলার প্রতি তাঁর গভীর টান। আর এই টানের নেপথ্যে রয়েছেন কিংবদন্তি পরিচালক ঋত্বিক ঘটক। ঋত্বিক ঘটকের সিনেমা দেখেই পরিচালক হওয়ার স্বপ্ন দেখেন অনুপ সিং। তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতেই তিনি তৈরি করেছেন তাঁর ৯০ মিনিটের ছবি ‘একটি নদীর নাম’ (The Name of a River)।
ঋত্বিক ঘটকের প্রভাব: কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এই সিনেমার বিশেষ স্ক্রিনিং শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে অনুপ সিং ঋত্বিক ঘটকের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা উজার করে দেন। তাঁর কথায়, “যেদিন ‘মেঘে ঢাকা তারা’ দেখলাম, সেদিন চমকে উঠে ভাবলাম, আরে এটা তো আমার জীবনেরও গল্প। ঋত্বিক ঘটকের সিনেমার মধ্যে সারা বিশ্বের উদ্বাস্তুদের অস্তিত্বের সংকট খুঁজে পেলাম, যেখানে বাঙালি, পঞ্জাবি-সহ সব রাষ্ট্রহীন মানুষ এক হয়ে যায়।”
‘একটি নদীর নাম’ চলচ্চিত্র: ২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবিটি ঋত্বিকের ছবির মতোই নদীর প্রতীক, সীমান্তের যন্ত্রণা এবং স্মৃতির করুণ সুর ফুটিয়ে তুলেছে।
প্রধান চরিত্র: এই ছবিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভিনেতা শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। বড়পর্দায় মুখ্য অভিনেতা হিসেবে এটি ছিল শিবপ্রসাদের প্রথম ছবি। তাঁর চরিত্রটি এমন এক মানুষের প্রতীক, যে দেশভাগের পর হারানো শিকড়ের সন্ধানে নতুন সীমান্ত পেরিয়ে হেঁটে চলে। তাঁর অভিনয়ে মিশে আছে হারিয়ে যাওয়া দেশ, স্মৃতি, ভালবাসা ও বেদনার ছায়া।
অন্যান্য শিল্পী: শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ছাড়াও অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন শামী কায়সার ও সুপ্রিয়া চৌধুরী। ছবির কাজ শুরু হয় ১৯৯৬ সালে এবং শেষ হয় ১৯৯৮ সালে।
প্রযোজক হাবিবুর রহমান খান: অনুপ সিং বলেন, শুরুতে তিনি এই ধরনের ছবি করার জন্য প্রযোজক পাচ্ছিলেন না। কিন্তু ঋত্বিক ঘটকের প্রতি তাঁর ভালোবাসা দেখে এগিয়ে আসেন হাবিবুর রহমান খান। হাবিবুর রহমান খান, যিনি ঋত্বিক ঘটকের বিখ্যাত ছবি ‘তিতাস একটি নদীর নাম’-এরও প্রযোজক ছিলেন, তিনি বলেন: “আমি অনুপের আর্ট এবং আমার গুরু ঋত্বিক ঘটকের প্রতি ওর শ্রদ্ধাবোধ দেখে মুগ্ধ হই। তাই তৃতীয় সাক্ষাতে আমি রাজি হয়ে যাই। এই ছবিটার অর্ধেক শুটিং তো বাংলাদেশেই হয়েছে।”
প্রসঙ্গত, অনুপ সিং ‘ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইন্সটিটিউট অফ ইন্ডিয়া, পুণে’র ফিল্ম স্টাডিজের ছাত্র। তাঁর নির্মিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ছবিগুলি হলো: ‘কিসসা: দ্য টেল অফ আ লোনলি ঘোস্ট’ এবং ‘দ্য সং অফ স্করপিয়নস’।