নমিনেশনের পরেই বড় টুইস্ট! হঠাৎ কেন মাঝপথে বিগ বসের ঘর ছাড়তে হলো ঝিলামকে?

বিগ বস বাংলা’র ঘরে ঘটে গেল এমন এক অভাবনীয় ঘটনা, যা মেনে নিতে পারছেন না কেউই। শারীরিক অসুস্থতার কারণে মাঝপথেই রিয়ালিটি শোয়ের মঞ্চ ছাড়তে বাধ্য হলেন জনপ্রিয় সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সার তথা প্রতিযোগী ঝিলাম গুপ্ত। সোমবারের ৪৩তম দিনে বিগ বসের ঘরে যখন চরম উত্তেজনার মধ্য দিয়ে নমিনেশন প্রক্রিয়া চলছে, তখন থেকেই শুরু হয় নাটকীয়তা। তনুশ্রী, ঝিলাম এবং দুর্নিবার— তিনজনেই একে অপরকে একচুলও জমি ছাড়েননি, যার ফলে তিনজনেই নমিনেটেড হন। কিন্তু এর পরেই আসে সেই মর্মান্তিক মুহূর্ত, যা কেউ কল্পনাও করেননি। চিকিৎসকদের কঠোর নির্দেশ এবং স্বাস্থ্যের মারাত্মক অবনতির কথা মাথায় রেখে নির্মাতারা ঝিলামকে শো থেকে সরিয়ে নেওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নেন। নতুন বাঁধা পুজোর গান ‘এসো মা’ গাইতে গাইতে এবং গোটা ঘরকে চোখের জলে ভাসিয়ে বিদায় নেন তিনি।

ঝিলামের এই আচমকা বিদায়ের কথা ঘোষণা করতেই শোয়ের অন্দরে নেমে আসে শোকের ছায়া। প্রতিযোগীরা প্রথমে এই খবর বিশ্বাসই করতে পারেননি। ঝিলামের উদ্দেশে বিগ বস অত্যন্ত স্নেহের সুরে বলেন, “আশা করি, বিগ বসের ঘর থেকে আপনি নিয়ে যাবেন নিজের প্রতি নতুন বিশ্বাস এবং অসংখ্য মানুষের ভালবাসা। আপনার আগামীদিনগুলো সাফল্য, আনন্দে এবং নয়া সম্ভাবনায় ভরে উঠুক। সুস্থ হয়ে উঠুন।” এই কথা শোনার পর অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে নীচু স্বরে কেবল ‘ধন্যবাদ’ জানান ঝিলাম। এরপর সকলের সঙ্গে শেষবারের মতো কথা বলার জন্য সময় চেয়ে নেন তিনি। হাউহাউ করে কাঁদতে শুরু করেন নিরঞ্জন, দুর্নিবার ও তনুশ্রীর মতো প্রতিযোগীরা। বিদায়ের আগে নিরঞ্জন ও দুর্নিবারের ডিমের ওপর স্মাইলি এঁকে স্মৃতিচিহ্ন দেন ঝিলাম। নিজের লেখা গানে অটোগ্রাফ দেওয়ার পাশাপাশি বিগ বসের ঘরে লিখে যান, “আদর বাড়ি মায়ায় ভরা, সকলকে অনেক ভালোবাসা।” ভেজা চোখে সকলের কাছ থেকে বিদায় নেন তিনি। ঝিলামের এই আকস্মিক প্রস্থান শুধু ঘরের ভেতরের সমীকরণকেই ওলটপালট করে দেয়নি, বরং দর্শক মহলেও গভীর প্রভাব ফেলেছে।

এদিকে, ঝিলামের বিদায়ের পাশাপাশি ঘরের অন্দরে অন্য সমীকরণগুলোও দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। সৃজলা, নন্দিনী ও রাজবীরের ত্রিভুজ বা ত্রিমুখী দ্বন্দ্ব এবং পারস্পরিক ঝগড়াও দর্শকদের নজর কেড়েছে। বিশেষ করে সৃজলার খেলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। সোনামণি ও দুর্নিবারের মধ্যকার একটি গোপন কথোপকথন ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রহস্য। সোনামণি দুর্নিবারকে জানান যে সৃজলা নাকি তাঁকে বলেছেন— দুর্নিবার তাঁকে পছন্দ করেন, আর তাতেই তিনি ভয় পেয়ে গেছেন। সৃজলা নাকি বুঝতে পারছেন না যে একদিকে জীতু এবং অন্যদিকে দুর্নিবার— এই পরিস্থিতি তিনি কীভাবে সামলাবেন। যদিও এই চাঞ্চল্যকর কথোপকথন ক্যামেরার সামনে বা মূল পর্বে আসেনি, কারণ সোনামণি ও সৃজলা বাথরুমে মাইক ছাড়াই কথা বলছিলেন। এখন দেখার বিষয়, এই অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং খেলার নতুন মোড় কোন দিকে এগোয়।