বাড়ি ফেরা হলো না লাখো মানুষের! উৎসবের মুখে নোয়াডা-গ্রেটার নোয়াডায় ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়তেই চরম হাহাকার!

দীপাবলি এবং ছটপুজোর ঠিক প্রাক্কালে হাতে বেতন আসতেই নিজেদের গ্রামের বাড়িতে ফেরার তাগিদে রাস্তায় নেমেছিলেন হাজার হাজার খেটে খাওয়া কাজজীবী ও সাধারণ মানুষ। কিন্তু উৎসবের আনন্দ শুরু হওয়ার আগেই তাঁদের দীর্ঘ এই যাতায়াত পথ এক বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের শিল্পনগরী নোয়াডা থেকে শুরু করে গ্রেটার নোয়াডার বিস্তীর্ণ এলাকায় উপচে পড়া ভিড়ের চাপে আক্ষরিক অর্থেই ভেঙে পড়েছে সম্পূর্ণ সড়ক যোগাযোগ ও যান চলাচল ব্যবস্থা। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে দাদ্রি, পরি চক, যমুনা এক্সপ্রেসওয়ের জিরো পয়েন্ট এবং নোয়াডার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাস স্টপ ও চত্বরগুলিতে সারারাত ধরে তীব্র যানজট ও নজিরবিহীন হাহাকারের পরিবেশ বজায় ছিল। সরকারি বাসের অপ্রতুলতা এবং চরম আকালের সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির অসাধু বেসরকারি বাস ও ছোট গাড়ি চালকরা যাত্রীদের অসহায়তার চরম ফায়দা তুলে ইচ্ছেমতো দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া আদায় করে পকেট ফাঁকা করেছে।

নোয়াডা এবং গ্রেটার নোয়াডার বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে কর্মরত লক্ষ লক্ষ শ্রমিক ও পেশাজীবী মানুষ বেতন হাতে পাওয়ার পরেই নিজেদের পরিবারের সঙ্গে উৎসবের দিনগুলি কাটাতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন। শনিবার বিকেল গড়াতেই প্রধান প্রধান সড়কগুলির মোড় এবং বাস টার্মিনালগুলিতে বাঁধভাঙা মানুষের জোয়ার দেখা যায়। দূরপাল্লার কোনো বাস টার্মিনালে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই সেটিতে ওঠার জন্য যাত্রীদের মধ্যে একপ্রকার হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। পরিস্থিতি এমন ভয়াবহ রূপ ধারণ করে যে, বাসগুলির ভেতর তো দূরের কথা, দরজার ফুসফুসেও পা রাখার বা তিল ধারণের কোনো জায়গাটুকু পর্যন্ত অবশিষ্ট ছিল না। নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের সঙ্গে নিয়ে হাজার হাজার মানুষ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে বাসের অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হন।

নোয়াডার জনবহুল সেক্টর-৬২, সেক্টর-৩৭ এবং ব্যস্ততম বোটানিক্যাল গার্ডেনের মতো প্রধান বাস টার্মিনালগুলিতে গাজিয়াবাদ, হাপুর, মীরাট, বুলন্দশহর থেকে শুরু করে দূরদূরান্তের পূর্বাঞ্চল এবং বিহারগামী সাধারণ মানুষ গভীর রাত পর্যন্ত ছোট শিশু ও বৃদ্ধ মা-বাবাকে কোলে নিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে বাসের খোঁজ করছিলেন। অন্যদিকে, গ্রেটার নোয়াডার দাদ্রি থেকে শুরু করে পরি চক এবং যমুনা এক্সপ্রেসওয়ের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত দীর্ঘ সড়কে যানবাহনের মাত্রাতিরিক্ত চাপের কারণে গাড়ির চাকা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে বিশাল এলাকাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। যাঁদের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বাড়ি পৌঁছে পরিজনদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার কথা ছিল, তাঁদের দীর্ঘ সময় কনকনে ঠান্ডায় বা তীব্র গরমে খোলা আকাশের নিচে নোংরা রাস্তার ওপর রাত কাটাতে বাধ্য হতে হয়।

যাত্রীদের এই বিপুল চাপ সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সরকারি (ইউপি রোডওয়েজ) বাস রাস্তার না থাকায় পরিস্থিতির আরও মারাত্মক অবনতি ঘটে। বাসের অভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ক্লান্ত ও পরিশ্রান্ত হয়ে পড়ে থাকা যাত্রীদের অসহায় অবস্থার সুযোগ নেয় সুযোগসন্ধানীরা। বেসরকারি বাস, ট্যাক্সি ও অটোরিকশা চালকরা এই সুযোগে সাধারণ মানুষের পকেট কাটতে শুরু করে এবং স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে বহুগুণ বেশি টাকা আদায় করে। প্রতি বছরই এই দীপাবলি ও ছটপুজোর মরশুমে নোয়াডা এবং গ্রেটার নোয়াডা অঞ্চল থেকে লক্ষাধিক মানুষ নিজ নিজ জন্মভিটায় ফিরে যান। তা সত্ত্বেও স্থানীয় প্রশাসন, রোডওয়েজ কর্তৃপক্ষ এবং ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে এত বড় জনস্রোত নিয়ন্ত্রণ করার জন্য পর্যাপ্ত অতিরিক্ত বাস এবং সুসংহত ট্রাফিক ব্যবস্থার কোনো রূপ পূর্বপ্রস্তুতি না থাকায় সাধারণ যাত্রীদের মনে তীব্র ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।