অযোধ্যা নিয়ে মহা হুংকার যোগী আদিত্যনাথের! “মন্থরা-মারীচের কুদৃষ্টি আর পড়তে দেব না”—কার বিরুদ্ধে এই চরম সতর্কবার্তা?

উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ চলতি বছরের দীপাবলির পবিত্র উৎসবে অযোধ্যায় নিশাদ সমাজের মানুষদের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্টভাবে উৎসব উদযাপন করেছেন। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি ভগবান শ্রীরাম এবং নিশাদ সমাজের মধ্যেকার ঐতিহাসিক ও সুপ্রাচীন সম্পর্কের কথা অত্যন্ত গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তিনি অযোধ্যার গৌরবোজ্জ্বল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং ধর্মীয় পরম্পরাগুলিকে সর্বতোভাবে সুরক্ষিত রাখার দৃঢ় সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেন। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন যে, আগামী দিনে পবিত্র অযোধ্যা নগরীর ওপর কোনো মন্থরা বা মারীচের অশুভ কুদৃষ্টি পড়তে দেওয়া যাবে না। অযোধ্যার বহুকালের হারানো বৈভবকে লুণ্ঠন করার এবং একে পুনরায় কলুষিত করার যেকোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক অপচেষ্টাকে বরদাস্ত করা হবে না এবং তা যেকোনো মূল্যে ব্যর্থ করে দেওয়া হবে।

মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ অত্যন্ত জোরালো ভাষায় বলেন যে, অযোধ্যা ধামের ওপর কুপ্রস্তাব বা কুদৃষ্টি ফেলার দুঃসাহস যেন কেউ না দেখায়, তা সুনিশ্চিত করা আমাদের প্রত্যেকের সম্মিলিত নৈতিক দায়িত্ব। তিনি অতীতের অন্ধকার দিনগুলির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন যে, বর্তমান ও ভবিষ্যতে আর কখনো রামভক্তদের ওপর বর্বরোচিত গুলি চালানোর সাহস কেউ দেখাতে পারবে না এবং ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি দেওয়ার অপরাধে কাউকে আর লাঠিচার্জের মুখে পড়তে হবে না। তাছাড়া অযোধ্যা পরিক্রমার ক্ষেত্রে—যেমন পঞ্চকোসী, চৌদ্দ কোসী এবং চুরাশি কোসী পরিক্রমা—কেউ কোনো ধরনের কৃত্রিম বা প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা চাপাতে পারবে না। মুখ্যমন্ত্রী এই সমস্ত অপশক্তিকে রুখে দিতে রাজ্যবাসীর কাছে একটি শক্তিশালী ও অখণ্ড সামাজিক সংকল্প গড়ে তোলার উদাত্ত আহ্বান জানান।

পৌরাণিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী ভগবান রাম ও নিশাদ সমাজের পারস্পরিক সম্পর্কের গভীরতা ব্যাখ্যা করেন। হিন্দু সনাতন ধর্মের মহাকাব্য রামায়ণে শ্রীরামের বনবাসকালে নিশাদরাজ গুহ এবং ভক্তিমান কেবটের ঐতিহাসিক প্রসংগ অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে উল্লেখ করা হয়। কেবট যেভাবে পরম ভক্তিভরে শ্রীরাম, মাতা সীতা ও লক্ষণকে পুণ্য নদী পারাপার করিয়েছিলেন, তা হিন্দু ধর্মে চিরকাল ভক্তি, সমর্পণ এবং সামাজিক সম্প্রীতির উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ঐতিহাসিকভাবে নিশাদ সম্প্রদায় নাভিক ও মৎস্যজীবী সমাজ হিসেবে নিজেদের পরিচিতি বহন করে আসছে। এমতাবস্থায়, মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি এই সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীপাবলি উদযাপন করে শ্রীরামের সঙ্গে জড়িত সেই বহুযুগের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সেতুবন্ধনকে জীবন্ত করে তুলেছেন।

এর আগে, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ অযোধ্যায় পৌঁছে সর্বপ্রথমে বিশ্বখ্যাত রামমন্দিরে প্রবেশ করেন এবং অত্যন্ত ভক্তিভরে ভগবান শ্রীরামলালার চরণে প্রণাম ও পুজো দেন। এই শুভলগ্নে তিনি দেশবাসীকে দীপাবলির প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানান। মুখ্যমন্ত্রী এই উৎসবকে সনাতন সংস্কৃতির শাশ্বত চেতনা এবং শ্রীরামের আদর্শের এক অপরূপ মেলবন্ধন হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন যে, এই মহান উৎসব মূলত ধর্ম, সত্য এবং আমাদের সুমহান আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের চিরন্তন মূল্যবোধেরই প্রতিফলন। পরিশেষে, তিনি সমগ্র দেশের সর্বাঙ্গীণ অগ্রগতি, শান্তি এবং সমৃদ্ধির জন্য দেবদূতের মতো পবিত্র এই দিনে বিশেষ প্রার্থনা নিবেদন করেন।