দীপাবলির ভোরে উল্লাস নিমেষে রূপ নিল মহাশোকে! ছাদ ধসে প্রাণ হারাল ১৫ দিনের শিশুসহ একই পরিবারের তিনজন

আলোর উৎসব দীপাবলির আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে বদলে গেল উত্তরপ্রদেশের কানপুরে। উৎসবের দিন রবিবারের ভোরে পাঙ্কি থানা এলাকার একটি পুরোনো বাড়ির ছাদ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে মাত্র ১৫ দিনের এক কচি প্রাণসহ একই পরিবারের তিনজন সদস্যের করুণ মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আরও একজন গুরুতর জ্যেষ্ঠ সদস্য আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পরিবর্তে দীপাবলির এই পবিত্র দিনটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটে রবিবার সকাল সাতটা থেকে আটটার মধ্যে, যখন পরিবারের সদস্যরা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। হঠাৎই বিকট শব্দে পাঙ্কি পাড়ভ এলাকার ওই আবাসিক বাড়ির দুটি ঘরের ছাদ ধসে পড়ে। ঘরের ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা মানুষগুলো আকস্মিক এই বিপদের মুখোমুখি হয়ে বের হওয়ার কোনো সুযোগই পাননি। চোখের পলকে তাঁরা ইঁট-সিমেন্টের ধ্বংসস্তূপের নিচে মারাত্মকভাবে আটকে পড়েন।
স্থানীয় বাসিন্দারা আর্তনাদ শুনতে পেয়ে তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং পুলিশকে খবর দেন। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ প্রশাসন এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF) যৌথভাবে দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় ধংসস্তূপ সরিয়ে আটকে থাকা লোকজনকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ৬৮ বছরের বিনোদিনী শুক্লা, ২৮ বছরের অংশিকা শুক্লা এবং ১৫ দিনের নবজাতক আরভ শুক্লাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। এছাড়া এই দুর্ঘটনায় ৩২ বছরের হর্ষ শুক্লা গুরুতর আহত অবস্থায় কল্যাণপুর কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পশ্চিমের ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (DCP) এস এম কাসিম আবিদি জানান, প্রতিবেশীদের দ্রুত সহায়তায় উদ্ধারকাজ চালানো সম্ভব হয়েছে। পুলিশ ও এসডিআরএফ দল যৌথভাবে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। তবে হঠাৎ কেন এত বড় দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। পুরোনো এই বাড়ির গঠনগত দুর্বলতা নাকি অন্য কোনো কারণ এর পেছনে রয়েছে, তা ফরেনসিক তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।