সৌদির ভয়াবহ বিমান হানায় রক্তে ভাসল ইয়েমেন! সানার গ্রামে হামলায় মৃত ৩৩, আহত বহু

ইয়েমেনের রাজধানী সানার কাছাকাছি একটি গ্রামে বিধ্বংসী বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। শনিবার ঘটা এই ভয়াবহ হানায় অন্তত ৩৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন। হুথি নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা ‘সাবা’ সূত্রে এই তথ্য জানানো হয়েছে। গত জুলাই মাসে সৌদি আরব ও ইরানপন্থী হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর, এটিকে অন্যতম রক্তক্ষয়ী ও ভয়াবহ হামলা বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মধ্যস্থতায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এবং হুথিদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এর ফলে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তপাত অনেকটাই কমেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় সেই যুদ্ধবিরতি কার্যত পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। বর্তমানে সানা শহর সম্পূর্ণভাবে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হওয়ার পর থেকেই হুথিরা প্রতিশোধ নিতে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর ও তেল পরিকাঠামো লক্ষ্য করে দফায় দফায় মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, ইয়েমেনে নিজেদের মিত্রদের টিকিয়ে রাখতে এবং হুথিদের রুখতে পাল্টা বিমান হামলা শুরু করেছে রিয়াদ।

উদ্ধারকারীদের ওপরেও হামলার অভিযোগ সাম্প্রতিক উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে সৌদি আরবের তেল পরিকাঠামো, একটি বিমানবন্দর এবং সেনা ঘাঁটি লক্ষ্য করে মোট ছ’টি সামরিক অভিযানের দায় স্বীকার করেছে হুথি গোষ্ঠী। হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, ব্যালিস্টিক মিসাইল, ক্রুজ মিসাইল এবং অত্যাধুনিক ড্রোন ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়েছে। তাইজ এবং বানি হাশিশে সাধারণ নাগরিকদের উপর সৌদি বাহিনীর বিমান হামলার প্রতিশোধ নিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।

হুথি পরিচালিত মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, সানার পূর্বে হুথিদের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বানি হুশাইশ শহরের একাধিক জনবহুল আবাসিক বাড়িতে আঘাত হেনেছে সৌদি বিমান। এই হামলায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের অধিকাংশেরই মহিলা ও শিশু বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে।

সানার সেহাতুনা হাসপাতালের অধিকর্তা আবদুল-আজিজ আল-দাইলামি অত্যন্ত উদ্বেগজনক তথ্য জানিয়ে রয়টার্সকে বলেন, “ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকে রয়েছেন। কিন্তু সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, একটার পর একটা বিমান হামলা থামছে না। উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে ফের বোমাবর্ষণ করা হচ্ছে। এমনকি আমাদের বেশ কয়েকজন চিকিৎসাকর্মী ও উদ্ধারকারীও এই হামলায় শহিদ হয়েছেন।” তিনি আরও জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় যাঁদের হাসপাতালে আনা হয়েছে, তাঁদের অনেকেরই মাথা, বুক ও পায়ে মারাত্মক জখম রয়েছে এবং বহু মানুষের হাড় ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।

দ্বাদশবর্ষীয় দ্বন্দ্বে লাখো মানুষ গৃহহীন এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার ভূরাজনৈতিক সংঘাতের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ইয়েমেনেও। এর জেরে দেশটিতে গত ১২ বছর ধরে চলা জটিল ও দীর্ঘমেয়াদী গৃহযুদ্ধ ফের নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM)-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এই সংঘর্ষের জেরে ইয়েমেনে নতুন করে ঘরছাড়া মানুষের সংখ্যা ইতোমধ্যেই ২ লক্ষের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে। যেভাবে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করছে, তাতে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরণের মানবিক সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে।