‘সিলেট ও চট্টগ্রাম ভারতের অংশ!’ নেহেরুর ভুল শোধরাতে এবার কি বাংলাদেশ সীমান্ত ভাঙবে ভারত? বিজেপি সাংসদের দাবিতে তোলপাড়!

পাক অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) তো বটেই, তার পাশাপাশি বাংলাদেশের অন্তর্গত নোয়াখালী, সিলেট এবং চট্টগ্রাম বন্দরও অবিলম্বে ভারতের পুনরুদ্ধার করা উচিত! এমনই এক নজিরবিহীন ও চটুল দাবি তুলে জাতীয় রাজনীতিতে চরম বিতর্ক সৃষ্টি করলেন ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)-র প্রবীণ সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। সংবাদসংস্থা এএনআই (ANI)-কে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে জানান, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময় তদানীন্তন ত্রিপুরার মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মাণিক্যের তীব্র আপত্তি ও দরকষাকষিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান জওহরলাল নেহেরু একতরফাভাবে এই অঞ্চলগুলো পাকিস্তানকে হস্তান্তর করেছিলেন।

বিজেপি সাংসদের দাবি, সিলেট, নোয়াখালী ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চট্টগ্রাম বন্দর প্রকৃতপক্ষে মহারাজ বীর বিক্রমের অধীন ত্রিপুরারই ভৌগোলিক অংশ ছিল। নেহেরুর ক্ষমতার লোভ ও প্রশাসনিক ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই আজ উত্তর-পূর্ব ভারত বঙ্গোপসাগরের মূল চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এর ফলে বিগত কয়েক দশক ধরে ওই অঞ্চলের বিপুল খনিজ সম্পদ, গ্যাস ও খনিগুলোর সঠিক অর্থনৈতিক ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। নিশিকান্ত দুবে স্পষ্টভাবে জানান, “উত্তর-পূর্ব ভারতের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও সুরক্ষার স্বার্থে নেহেরুর আমলের এই ঐতিহাসিক ভুলগুলো সংশোধন করা জরুরি এবং সিলেট, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী ভারতের মানচিত্রে পুনরুদ্ধার করা দরকার।”

এখানেই শেষ নয়, ১৯৪৬ সালের বিভীষিকাময় নোয়াখালী দাঙ্গার প্রসঙ্গ তুলে তিনি নেহেরুর ভূমিকা নিয়ে কড়া প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, সেই গণহত্যার সময় এক দিনে প্রায় ১০ হাজার হিন্দু নির্মমভাবে নিহত হওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক উদাসীনতার কারণে নেহেরু সেখানে একবারের জন্যও যাননি। সাংসদের কথায়, “নেহেরু কেবল প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য মরিয়া ছিলেন। তিনি ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট নয়, বরং ১৯৪৬ সালের ২ সেপ্টেম্বরই কার্যনির্বাহী প্রধানের চেয়ার দখল করেছিলেন।” ঐতিহাসিক সত্য বিকৃতি এবং ভৌগোলিক ক্ষতির জন্য নেহেরুর এই সিদ্ধান্তগুলোকে দায়ী করে নিশিকান্ত দুবের বক্তব্য এখন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।