মহিলাদের মণ্ডপে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ! ৫২ বছর ধরে চেতলায় কেন পুজো পান দেবী ছিন্নমস্তা? নেপথ্যে এক অলৌকিক ঘটনা

একসময় এই ৮৬ পল্লীতে চিরাচরিত শ্যামাকালী পুজোই সম্পন্ন হতো। তবে পাঁচ দশক আগে পাড়ার একদল উৎসাহী প্রবীণ সদস্য সিদ্ধান্ত নেন, দেবীর সাধারণ রূপের বদলে এমন এক মহাশক্তি রূপের আরাধনা করা হবে, যা সাধারণ মানুষের কাছে দুর্লভ।
পরবর্তীতে বিশিষ্ট তান্ত্রিকদের সঙ্গে পরামর্শ করে দাস মহাবিদ্যার অন্যতম রুদ্ররূপ ‘দেবী ছিন্নমস্তা’-র পুজো শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পুজোটির শুরুর দিকে একবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন মহালয়ার কিংবদন্তি কণ্ঠ বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। ক্লাব কর্তাদের দাবি, সেদিন অনুষ্ঠানে এসে তিনি পরামর্শ দিয়েছিলেন, এই দেবীর পুজো অত্যন্ত নিষ্ঠা ও কঠোর নিয়ম মেনে করতে হবে। একই সঙ্গে পুজো চলাকালীন মণ্ডপে যাতে কোনো মহিলা প্রবেশ না করেন, সেই নিয়ম বজায় রাখার নির্দেশও দিয়েছিলেন তিনি। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের সেই পরামর্শই কালক্রমে এই পুজোর অন্যতম অটুট রীতিতে পরিণত হয়।
মণ্ডপে আগুন লাগার অলৌকিক ঘটনা ও অলৌকিক বিশ্বাস
মণ্ডপে মহিলাদের প্রবেশের ওপর এত কঠোর নিষেধাজ্ঞা কেন? এই নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পুজো কমিটির সম্পাদক সুমিত বিশ্বাস এক অলৌকিক অভিজ্ঞতার কথা শোনান।
তিনি জানান, বহু বছর আগে একবার পুজো চলাকালীন সমস্ত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এক মহিলা কৌতুহলবশত মণ্ডপের ভেতরে ঢুকে পড়েন। ঠিক সেই মুহূর্তেই অলৌকিকভাবে মণ্ডপে দাউ দাউ করে আগুন ধরে যায়! সেই ঘটনার পর থেকেই এলাকাবাসী ও ক্লাব সদস্যরা দেবী ছিন্নমস্তার মাহাত্ম্য ও কোপ নিয়ে একবিন্দু ঝুঁকি নিতে চান না।
কমিটির সদস্যরা বিশ্বাস করেন, মায়ের নিয়ম ও নিষ্ঠায় সামান্যতম খামতি থাকলেও বিপদ ঘনিয়ে আসতে পারে। এর পাশাপাশি আরও একটি অলৌকিক দিক রয়েছে— প্রতি বছর পুজো আয়োজনে তীব্র আর্থিক সংকট দেখা দিলেও, পুজোর দিন রাতেই আচমকা ভক্তদের বিপুল দান ও চাঁদায় সমস্ত খরচের ব্যবস্থা অলৌকিকভাবে হয়ে যায়।
সম্পূর্ণ তন্ত্রমতে পুজো ও পাঠাবলি প্রথা
চলতি বছর ৫২তম বর্ষে ১৪ ফুট উচ্চতার বিশাল দেবীর প্রতিমা তৈরি করছেন বেহালার বিশিষ্ট শিল্পী সনদ পাল (পূর্বে এই প্রতিমা তৈরি করতেন মেদিনীপুরের শিল্পী বলরাম পাল)। সম্পূর্ণ তন্ত্রমতে আরাধনা করা হয় ছিন্নমস্তার। মায়ের সঙ্গেই পুজো পান তাঁর দুই সহচরী ডাকিনী ও যোগিনী।
৪০ ফুট উঁচু সাবেকি মণ্ডপে ঐতিহ্য মেনে আজও বজায় রয়েছে প্রাচীন পাঁঠাবলি প্রথা। আধুনিকতার ভিড়ে এখনও নিজেদের এই তান্ত্রিক ঐতিহ্য ও কড়া নিয়মনীতি আঁকড়ে ধরে রেখেই কালীপুজোয় অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে চেতলার এই ৮৬ পল্লী।