সিঙ্গাপুর থেকে ভাগ্নের বিয়েতে এসে মর্মান্তিক পরিণতি! হরিয়ানায় পার্কিং-কুকুর বিবাদে গুলিতে ঝাঁঝরা প্রাক্তন টেক মাহিন্দ্রা কর্তা

ভাগ্নের বিয়েতে যোগ দিতে বিপুল আনন্দ ও উৎসাহ নিয়ে বহু দূরে সিঙ্গাপুর থেকে দেশের মাটিতে পা রেখেছিলেন প্রাক্তন টেক মাহিন্দ্রা কর্তা। কিন্তু সামান্য পার্কিং ও পোষ্য কুকুরকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া প্রতিবেশীগত বচসা যে এমন হাড়হিম করা মর্মান্তিক রূপ নেবে, তা স্বপ্নেও ভাবেনি পরিবার। সামান্য কথা কাটাকাটির জেরে প্রতিবেশীর বন্দুকের গুলিতে নির্মমভাবে ঝাঁঝরা হয়ে প্রাণ হারালেন ওই সিঙ্গাপুর প্রবাসী ভারতীয় (NRI)।

চাঞ্চল্যকর এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে হরিয়ানার ফরিদাবাদ এলাকায়। ঘটনায় গোটা এলাকায় চরম শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।

পার্কিং ও পোষ্যের মলত্যাগ নিয়ে পুরনো অশান্তি

স্থানীয় পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তি বহু বছর ধরে সিঙ্গাপুরে বসবাস করছিলেন এবং তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা ‘টেক মাহিন্দ্রা’র উচ্চপদস্থ প্রাক্তন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি ভাগ্নের বিবাহ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি পরিবারসহ হরিয়ানায় নিজের বাড়াতে আসেন।

তবে বাড়ি ফেরার পর থেকেই প্রতিবেশীর সঙ্গে তাঁর একাধিক বিষয় নিয়ে খটমট তৈরি হয়। পুলিশ জানায়, বাড়ির সামনে গাড়ি কোথায় পার্ক করা হবে, তা নিয়ে প্রতিবেশীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডা চলছিল কয়েক দিন ধরে। পাশাপাশি প্রতিবেশীর পোষ্য কুকুর তাঁদের বাড়ির সামনে ও পার্কিংয়ের জায়গায় মলত্যাগ করা নিয়েও দু’পক্ষের মধ্যে চরম বিবাদ উপস্থিত হয়।

বচসা থেকে সরাসরি গুলি বর্ষণ

ঘটনার দিন পার্কিং সমস্যা নিয়ে দুই পরিবারের কথা কাটাকাটি আচমকাই উগ্র রূপ ধারণ করে। বচসা চরম সীমায় পৌঁছালে অভিযুক্ত প্রতিবেশী নিজের মেজাজ হারিয়ে ফেলে এবং ঘর থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে আনে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রাক্তন ওই আইটি কর্তাকে লক্ষ্য করে পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চালায় অভিযুক্ত।

গুলির বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। রক্তপ্লুত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই গড়িয়ে পড়েন তিনি। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

তদন্তে পুলিশ ও চিরুনি তল্লাশি

ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত প্রতিবেশী স্থান ত্যাগ করে চম্পট দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফরিদাবাদ থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। নিহতের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে একাধিক টিম গঠন করে এলাকা জুড়ে চিরুনি তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

আনন্দ ও উৎসবের আলোয় ভরা বাড়িটি মুহূর্তের মধ্যে স্বজনহারাদের কান্নায় ও শোকে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। সামান্য পার্কিং বিবাদে এমন আগ্নেয়াস্ত্র তুলে নেওয়ার ঘটনায় ফের একবার ওই এলাকার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন উঠে গেল।

Pratik Saha
  • Pratik Saha