বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে নিয়ে হঠাৎ কেন সুর নরম করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু? তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

বঙ্গ রাজনীতিতে সময়ের চাকা ঘুরেছে বহু দূর। ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ শুভেন্দু অধিকারী আজ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। অন্যদিকে, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য আজ আর আমাদের মাঝে নেই। সম্প্রতি সিঙ্গুরে নতুন শিল্প সম্ভাবনার কথা ঘোষণা করার সময় বাম আমলের শিল্পনীতির তীব্র সমালোচনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু ব্যক্তি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের প্রসঙ্গে উঠতেই মুখ্যমন্ত্রীকে শোনা গেল কিছুটা ভিন্ন ও নরম সুরে।
ব্যক্তি বুদ্ধদেব নয়, দায়ী সিপিএমের ভুল নীতি
বুধবার শিল্প নীতি সংক্রান্ত বিষয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের অবদান বা ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, “আমি প্রয়াত কোনো মানুষকে নিয়ে ব্যক্তিগত মন্তব্য করব না। তবে আমি সামগ্রিক অবস্থান থেকেই বলছি, সিপিএমের ভুল ও অপরিনামদর্শী শিল্পনীতির জন্যই পশ্চিমবঙ্গ থেকে শিল্প চলে গিয়েছিল। এর পেছনে ব্যক্তি জ্যোতি বসু বা প্রয়াত বুদ্ধবাবুর কোনো বিষয় নেই, দায়ী ছিল তৎকালীন দলের নীতি।”
বাম আমলের শিল্প ও বর্তমানের প্রেক্ষাপট
ইতিহাসের পাতায় জ্যোতি বসু ও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের আমলে বাংলার শিল্পায়নের চেষ্টা এবং তার ব্যর্থতা নিয়ে বহু আলোচনা রয়েছে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী সিঙ্গুরে নতুন করে শিল্পায়নের রূপরেখা তৈরির সময় তুলে ধরেন কীভাবে তৎকালীন সরকার ভুল পদক্ষেপ নিয়েছিল। তবে রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকলেও প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি সৌজন্য প্রদর্শন করে শুভেন্দু অধিকারী ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে বিরত থেকেছেন।
সুরক্ষার বিষয়টিও ছিল নজরে
উল্লেখযোগ্যভাবে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও বিরোধী স্থান থেকে ক্ষমতায় আসার পর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের পাম অ্যাভিনিউয়ের বাসভবনের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করেছিল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। তাঁর প্রতি প্রশাসনিক সৌজন্য ও শ্রদ্ধা যে বরাবরই বজায় রাখা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর আজকের এই মন্তব্যেই তা আরও একবার স্পষ্ট হলো।