‘প্রযুক্তির চেয়েও সাহস অনেক বড়!’ দীপাবলির আগে বাগডোগরা এয়ারফিল্ডে দাঁড়িয়ে ডিফেন্স মন্ত্রীর বিরাট বার্তা

দীপাবলির উৎসবের আনন্দ ও আলো ঝলমলে পরিবেশের মাঝেই দেশের সুরক্ষাকে সর্বাগ্রে রেখে পশ্চিমবঙ্গের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাগডোগরা এয়ারফিল্ডে সশরীরে হাজির হলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। দীপাবলির এই পবিত্র প্রাক্কালে ভারতীয় বিমান বাহিনীর (IAF) বীর জওয়ান ও অফিসারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁদের সঙ্গে আলোর উৎসব উদযাপন করেন তিনি। একইসঙ্গে দেশের অখণ্ডতা রক্ষা, জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা সংকটময় পরিস্থিতিতে বিমান বাহিনীর জওয়ানদের অসামান্য সাহস, লৌহমানসিকতা এবং আপসহীন নিষ্ঠার ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন ভাষায় স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, দেশের এই বীর ‘এয়ার ওয়ারিয়র্স’ বা বিমান যোদ্ধাদের অতুলনীয় অবদান ও পরাক্রম আজ কেবল ভারত নয়, গোটা বিশ্বজুড়ে সমাদৃত ও প্রশংসিত হচ্ছে।

জওয়ানদের উদ্দেশে দেওয়া তাঁর অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ী বক্তব্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রী শৃঙ্খলার অপরিসীম গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন যে, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে যতই উন্নত প্রযুক্তির আগমন ঘটুক না কেন, জওয়ানদের বুকভরা সাহস এবং কঠোর শৃঙ্খলা তার চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী ও কার্যকরী। এই প্রসঙ্গে তাঁর সাফ কথা, ‘‘প্রযুক্তি যতই উন্নত ও আধুনিক হোক না কেন, যদি আমাদের জওয়ানদের মধ্যে ইস্পাতকঠিন শৃঙ্খলা ও অতুলনীয় সাহস না থাকে, তবে সেই প্রযুক্তি সম্পূর্ণ নিষ্ফল। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী বিশ্বজুড়ে তাদের কঠোর শৃঙ্খলার জন্যই বিশেষভাবে পরিচিত। এই শৃঙ্খলাটাই একজন সাধারণ সেনাকে যেকোনো মুহূর্তে একজন অসাধারণ ও অপ্রতিরোধ্য যোদ্ধায় রূপান্তরিত করতে পারে।’’ প্রতিকূল ভূ-প্রাকৃতিক পরিস্থিতিতে দেশকে সুরক্ষিত রাখা কিংবা যে কোনো ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুহূর্তে উদ্ধার ও ত্রাণের কাজে ভারতীয় বিমান বাহিনী সর্বদা যে মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়ে আসছে, তারও বিশেষ প্রশংসা করেন তিনি।

ভবিষ্যতের আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের জটিল চ্যালেঞ্জগুলি সাফল্যের সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে আরও বেশি প্রযুক্তি-নির্ভর করে তোলার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। বর্তমান যুগের আধুনিক যুদ্ধকৌশল যেমন ড্রোন পরিচালনা, সাইবার নিরাপত্তা এবং যুদ্ধক্ষেত্রের নতুন পদ্ধতিগুলি দ্রুত আয়ত্ত করার ক্ষেত্রে ভারতীয় জওয়ানদের অগ্রণী ভূমিকার তিনি উচ্চ প্রশংসা করেন। এই প্রসঙ্গে দেশের ক্রমবর্ধমান ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষমতার কথা তুলে ধরে রাজনাথ সিং বলেন, ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ফলে আজ দেশের অভ্যন্তরীণ ডিফেন্স স্টার্ট-আপ এবং দেশীয় শিল্পগুলি ড্রোন, অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম এবং একাধিক বিশ্বমানের উন্নত সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করছে। দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত এই সমস্ত অত্যাধুনিক সরঞ্জাম ভারতীয় জওয়ানরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করছেন এবং দেশের নিরাপত্তাকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিচ্ছেন বলে তিনি গভীর গর্ব প্রকাশ করেন।

শুধু সীমান্ত সুরক্ষা বা যুদ্ধপ্রস্তুতিই নয়, জওয়ানদের নৈতিক আচরণের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে, জওয়ানরা দেশের ভেতরে বা বাইরে যেখানেই মোতায়েন থাকুন না কেন, স্থানীয় সাধারণ মানুষের সঙ্গে সবসময় সুসম্পর্ক ও সৌহার্দ্য বজায় রাখা তাঁদের অন্যতম প্রধান নৈতিক দায়িত্ব। জওয়ানদের পরিপাটি পোশাক, মার্জিত ভাষা এবং চরম সংযমের মাধ্যমেই মূলত সাধারণ মানুষের মনে দেশের সশস্ত্র বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভাবমূর্তি গড়ে ওঠে। বাগডোগরা এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকার সাধারণ মানুষের সেনার প্রতি যে গভীর ভালোবাসা ও আস্থ রয়েছে, তার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, সেই পবিত্র ভালোবাসার মর্যাদা রক্ষা করার মূল দায়িত্ব জওয়ানদেরই। স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে সেনার এই পারস্পরিক মেলবন্ধন আরও বেশি সুদৃঢ় হলে শত্রুপক্ষের যেকোনো ধরনের বিভাজনের চক্রান্ত সহজেই নস্যাৎ করা সম্ভব হবে বলেই জোরালো মত প্রকাশ করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।