উৎসবের মরশুমেও টাকা কামানোর মোক্ষম সুযোগ! রবিবারে বিশেষ ট্রেডিং সেশন নিয়ে এল স্টক এক্সচেঞ্জ

দেশজুড়ে দীপাবলির উৎসবের আমেজের মাঝে বিনিয়োগকারীদের মনে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছে যে, এই উৎসবের মরশুমে শেয়ার বাজার কবে খোলা থাকবে এবং কবেই বা বন্ধ থাকবে। ধনতেরাস ও ভূত চতুর্দশী থেকে শুরু করে দীপাবলি এবং ভাইফোঁটা পর্যন্ত বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি প্রথাগত বিনিয়োগের জন্যও বাজারে বিশেষ নজর থাকে। বিনিয়োগকারীদের এই উৎসাহ এবং প্রথার কথা মাথায় রেখে দালাল স্ট্রিটের ঐতিহ্যবাহী সময়সূচীতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষক হলো দীপাবলি উপলক্ষে রবিবার একটি বিশেষ ট্রেডিং সেশনের আয়োজন।
সংশোধিত সূচি অনুযায়ী, শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির কারণে স্বাভাবিক নিয়মেই শেয়ার বাজার বন্ধ থাকছে। তবে এর ঠিক পরেই আগামী রবিবার দীপাবলির পবিত্র তিথিতে ঐতিহ্যবাহী ‘মুহুরত ট্রেডিং’ (Muhurat Trading)-এর জন্য বিশেষ ভাবে বাজার খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক ঘণ্টার এই বিশেষ ও প্রতীকী ট্রেডিং সেশনে বিনিয়োগকারীরা প্রথা অনুযায়ী কেনাবেচা করার সুযোগ পাবেন। তবে সাধারণ কার্যদিবসের মতো পুরো দিন জুড়ে এই লেনদেন চলবে না, এর জন্য নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম ও সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
মুহুরত ট্রেডিংয়ের রবিবারের এই বিশেষ সেশনটি শুরু হবে দুপুর ২:০৫ মিনিটে ‘প্রি-ওপেন’ বা প্রাক-উদ্বোধনী পর্বের মাধ্যমে। দুপুর ২:১০ মিনিট পর্যন্ত বিনিয়োগকারীরা তাঁদের পছন্দমতো ‘লিমিট অর্ডার’ (limit order) এবং ‘মার্কেট অর্ডার’ (market order)—উভয় প্রকার অর্ডারই দিতে পারবেন। এরপর দুপুর ২:১০ থেকে ২:১৫ মিনিট পর্যন্ত শুধুমাত্র ‘লিমিট অর্ডার’ গ্রহণ করার নিয়ম রাখা হয়েছে। পরবর্তী ধাপে দুপুর ২:১৫ থেকে ২:১৭ মিনিট পর্যন্ত চলবে অর্ডার ম্যাচিং ও সম্মতির প্রক্রিয়া। আর সমস্ত প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য দুপুর ২:১৭ থেকে ২:২০ মিনিট পর্যন্ত একটি বিশেষ বাফার সময় নির্ধারিত রয়েছে।
বাফার সময়ের ঠিক পরেই শুরু হবে মূল নিয়মিত ট্রেডিং পর্ব। দুপুর ২:২০ মিনিট থেকে বিকেল ৩:৩০ মিনিট পর্যন্ত একটানা ট্রেডিং সেশন চলবে। এছাড়াও, এই বিশেষ ট্রেডিং সময়ের একেবারে শেষ অংশে এক্সচেঞ্জগুলির তরফে ‘ক্লোজিং-অকশন’ (closing-auction) প্রক্রিয়ারও সফল আয়োজন করা হয়েছে। এই বিশেষ রবিবারের সেশনের পর আগামী মঙ্গলবার শেয়ার বাজারে পরবর্তী ছুটি থাকবে। সেই দিন ইকুইটি বা মূল শেয়ার বাজার সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলেও কমোডিটি বা পণ্য বাজার খোলা থাকবে।
উল্লেখ্য, ‘মুহুরত ট্রেডিং’ হলো ভারতীয় পুঁজিবাজারের এক দীর্ঘদিনের এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় ঐতিহ্য। ১৯৫৭ সালে বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ (BSE) প্রথম এই প্রথার সূচনা করেছিল এবং পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (NSE)-ও এই ঐতিহ্যকে সানন্দে গ্রহণ করে। এই বিশেষ সময়ে ব্রোকাররা নতুন আর্থিক বছরের শুভ সূচনা হিসেবে তাঁদের হিসাবের নতুন খাতা বা বইয়ের পুজো করেন। একইসঙ্গে এটি লক্ষ্মী পুজোর পবিত্র সময়ের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে, যখন বিনিয়োগকারীরা বাজারে নতুন করে পুঁজি বিনিয়োগের আগে ধন-সম্পদ ও সমৃদ্ধির দেবীর আরাধনা করেন। তবে স্টক মার্কেট বিশেষজ্ঞদের মতে, শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ সবসময়ই বাজারগত ঝুঁকির অধীন। তাই এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্য প্রদানের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে এবং বিনিয়োগের আগে অবশ্যই অভিজ্ঞ আর্থিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।